বৃহস্পতিবার খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম আশিকুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঐ আদালতের আইনজীবী সাব্বির আহমেদ।
জানা যায়, নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন হাজী ইসমাঈল লিংক রোড ইসলাম কমিশনার মোড়ের বাসিন্দা হেলাল উদ্দীনের ছেলে। তিনি শেরে বাংলা রোড বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১ এর সাহায্যকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হেলালের বাড়ির নিচতলায় জনৈক রবিউল ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস ও ঘরের সঙ্গে মুদি দোকানের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
.png)
আসামি জসিম পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। তিনি রবিউলের প্রতিবেশী। ঘটনার ছয়দিন আগে রবিউলের দোকান থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। জসিম মোবাইল ফোন উদ্ধার করা বাবদ মুদি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮০০ টাকা নেন। কিন্তু মোবাইল ফোন উদ্ধার করে না দিয়ে জসিম তালবাহানা শুরু করেন। এ নিয়ে ঐ এলাকায় একটি সালিশের আয়োজন করেন মুদি ব্যবসায়ী রবিউল।
২০১৫ সালের ১৯ মে সালিশের পর জাহাঙ্গীর হোসেন জসিমকে মোবাইল ফোন চুরির জন্য সন্দেহ ও তাকে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য বলেন। এ ঘটনায় জসিম বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীরের ওপর ক্ষিপ্ত হন। ঐদিন বিকেল ৫টার দিকে জাহাঙ্গীর মুদি দোকান ব্যবসায়ীর বেঞ্চে বসে বাড়ির কাজ দেখাশুনা করছিলেন। এ সময় আসামি জসিম পেছন থেকে জাহঙ্গীরের গলায় ও ঘড়ে ধারালো ছুরি আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে জাহাঙ্গীরকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একইদিন রাতে জাহাঙ্গীরের বড় ভাই বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানা একটি হত্যা মামলা দয়ের করেন। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সোনাডাঙ্গা থানার এসআই জি এম নজরুল ইসলাম জসিমকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা চলাকালীন ১৮ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।