ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: প্রস্তুত চসিকের ৭৪ আশ্রয়কেন্দ্র
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আওতাধীন উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে ৭৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। এছাড়া উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে করা হচ্ছে মাইকিং।
সোমবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান চসিক মেয়রের একান্ত সচিব ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম।
তিনি বলেন, আক্রান্ত এলাকা থেকে লোকজন সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় উদ্ধারকারী দল ও গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
.png)
চসিক সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে মেডিকেল টিম গঠন করেছে চসিক। এ বিষয়ে যেকোনো সহযোগিতা পেতে চসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানার মুঠোফোনে (০১৮১৭-৭০৬০৫৫) যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে। দামপাড়ার পুল অফিসে খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। তাৎক্ষণিক যেকোনো সেবা ও তথ্য জানতে কন্ট্রোলরুমের নম্বরে (০১৬৭৪-৩৫৬৯০১, ০৩১-৬৩০৭৩৯, ০৩১-৬৩৩৬৪৯) যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও সড়কের আলোকায়নের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পুনঃসংযোগের জন্য চসিক বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আমীর আব্দুল্লাহর মুঠোফোনে (০১৯১২-৩৪২১৪৪) যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্ব্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
এছাড়া মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ফেনী এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ, অমাবস্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পাঁচ থেকে আট ফুটের বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।