ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং

কক্সবাজারে বিধ্বস্ত তিন হাজার বসতি

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪৩, ২৫ অক্টোবর ২০২২
কক্সবাজারে বিধ্বস্ত তিন হাজার বসতি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় তিন হাজার বসতবাড়ি। পাঁচ শতাধিক চিংড়ি ঘেরের বাঁধ ভেঙে কোটি কোটি টাকার মাছ সাগরের পানিতে ভেসে গেছে। বিশেষ করে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফের সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপ উচ্চ জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। 

জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে দুই শতাধিক বসতবাড়িতে ডুকে পড়েছে পানি। শাহপরীর দ্বীপে ক্ষতি হয়েছে ১৮০ পরিবার। কক্সবাজার সদরের লামারপাড়া, গোদারপাড়া, নাজিরারটেক, সমিতি পাড়া, খুরুশকূল, চৌফলদন্ডী ও পোকখালী ইউনিয়নের ৮৫০টি কাঁচা ঘরবাড়ি উচ্চ জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া, ঘটিভাঙ্গা, তাজিয়াকাটা, বড়দিয়া, অমাবশ্যাখালী, কালিগঞ্জ মৌজা, পশ্চিম ঝাপুয়া, মাইজপাড়া, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন এর জালিয়াপাড়, সাইরার ডেইল, হংস মিয়াজির পাড়া ও ঘলঘাটা ইউনিয়ন এর সাইটপাড়া, কেরুনতলী, শরইতলা, সুতুরিয়া, বেগুনবনিয়া, পন্ডিতের ডেইল ও ঘাটপাড়াসহ দুই হাজার পরিবার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়।  

Advertisement

এদিকে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল, আলী আকবর ডেইল, খুদিয়ারটেক ও উত্তর ধুরুম এলাকার দেড় হাজার পরিবার। 

কুতুবদিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা জানান, কুতুবদিয়ায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ৮০০ ঘরবাড়ি। সাধুপানির পুকুর  নোনাজলে প্লাবিত হয়েছে ৪৫টি। উত্তর ধুরুম ও দক্ষিণ ধুরুম এলাকার প্রায় ৪০ একর ধানি জমি লবণ জলে প্লাবিত হয়।

এছাড়া পেকুয়া উপজেলার মগনামা, রাজাখালী, টৈটং ও উজানটিয়া এলাকার প্রায় সাড়ে পাঁচশো বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। চকরিয়া উপজেলার বদরখালী, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, চিরিংগা, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী ইউনিয়নের সহস্রাধিক বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর বাইরে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার ৫০০ এর অধিক চিংড়ি ঘেরের মাছ উচ্চ জলোচ্ছ্বাসে সাগরে ভেসে গেছে। 

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে তালিকা প্রনয়নের কাজ শুরু হয়েছে। উচ্চ জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল থেকে পানি সরে যাচ্ছে। তবে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাতে উপকূলের পাঁচ শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্রের তিন শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

তবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে কক্সবাজারে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

ধলঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানান, ধলঘাটায় ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেইসঙ্গে চারটি চিংড়ি প্রজেক্ট সাগরের পানিতে ভেসে গেছে। রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছিল প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এবং নিরাপদে নিয়ে আসা হয় গবাদিপশুও। 

জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ জানান, আপাতত দুর্যোগ কেটে গেছে। সারারাত উপকূলে নজর ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছিল লোকজনদের। তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন পানি নেমে যাচ্ছে। ক্ষতের চিহ্ন ভেসে উঠছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে জেলায় কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপনের চেষ্টা চলছে। খুব শিগগিরই জানানো হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!