১৯৭০ সালের এদিনে ঘূর্ণিঝড় গোর্কির আঘাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চলের চার লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হারিয়ে যায় লক্ষাধিক প্রাণ। নিখোঁজ হন অগণিত মানুষ। সেদিন বরগুনার পাথরঘাটারও অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। ক্ষতিগ্রস্ত হন অনেকে।
কথা হয় সেই ভয়াল ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় কাছ থেকে দেখা আব্দুল কাদেরের সঙ্গে। তিনি বলেন, সত্তরের সেই তাণ্ডব মনে হয় কিছুদিন আগের কথা। মুহূর্তেই সবকিছু তছনছ হয়ে গিয়েছিল। বিষখালী নদীতে সারি সারি লাশ ভাসতে দেখেছি। দাফনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় নিজেই অনেক লাশ সরিয়ে নিয়েছি।
.png)
তিনি বলেন, গোর্কির তাণ্ডবের পর এক ধরনের দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এসব অঞ্চলে। ক্ষুধার তাড়নায় আমরা ভাতের মাড় খেয়েছি দিনের পর দিন। ভেবেছি সেদিনই আমরা মনে যাবো। কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন।
পাথরঘাটা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল হক মোল্লা বলেন, তখন যুবক ছিলাম। গায়ে ছিল অনেক শক্তি। কিন্তু সত্তরের মতো বন্যা আর দেখিনি। মুহূর্তেই পানি এসে সব তলিয়ে যায়। অনেক লাশের খোঁজও মেলেনি। গাছে গাছে মানুষের লাশ দেখা গিয়েছিল। বিভীষিকাময় সেই স্মৃতি এখনো আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
গহরপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী খান বলেন, আমরা সাত ভাই-বোন ছিলাম। সংসারের আমি বড়। পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে ছোট দুই ভাইকে নিয়ে পাশেই ওয়াপদা ভবনে নিয়ে যাই। বাকিদের আনার জন্য বাড়ি পর্যন্ত যেতে পারিনি। এর আগেই পানিতে সব তলিয়ে গিয়েছিল।
১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়টি পৃথিবীর সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতী ঝড় হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ। চলতি বছরের ১৮ মে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বিশ্বের পাঁচ ধরনের ভয়াবহ প্রাণঘাতী আবহাওয়া ঘটনার শীর্ষ তালিকা প্রকাশ করে।
তালিকার শীর্ষ প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এ ঝড়টিকে পৃথিবীর সর্বকালের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।