এ ঘটনায় ওই নবজাতকের বাবা রহিদুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক অন্য দুইজন হলেন- কাঁকনহাট পৌর এলাকার বিউটি বেগম ও মহাগরীর দাশপুকুর এলাকার অয়েজ উদ্দিনের ছেলে তরিকুল।
এর আগে, রোববার (২০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় পুলিশকে ফোন করে মহানগরীর রাজপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন স্ত্রী জান্নাতুন বেগম। তবে শিশুটির বাবার দাবি, ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পেরে তিনি সন্তানকে বিক্রি করেছিলেন।
.png)
জানা গেছে, রহিদুল ইসলাম নওগাঁর সদর উপজেলার হাসাইগাড়ি গ্রামের লক্ষ্মীন শাহীদার ছেলে। তিনি স্ত্রী জান্নাতুনকে নিয়ে রাজশাহী মহানগরীর সিলিন্দা এলাকায় বাস করতেন।
নবজাতক শিশুটির মা জান্নাতুন বেগমের অভিযোগ, ১০ নভেম্বর মহানগরীর কেয়ার নার্সিং হোমে তিনি একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। চিকিৎসার কথা বলে তার কোল থেকে ওই শিশুটিকে নিয়ে যান রহিদুল। এরপর রহিদুল তাকে বলেন শিশুটি মারা গেছে। জান্নাতুন ক্লিনিক থেকে বাড়ি ফেরার পর শিশুর কবর দেখাতে বললে রহিদুল কবর দেখাননি। এ নিয়ে ক্লিনিক থেকে ফেরার পর তাদের মধ্যে বিবাদ লেগেই ছিল। রোববার সকালে জান্নাতুনের আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় লোকজন রহিদুলকে জেরা করলে তিনি স্বীকার করেন শিশুটি বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে তিনি পুলিশকে জানান।
এদিকে রাজপাড়া থানার এসআই কাজল নন্দি জানান, রোববার সকালে তাদের ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তারা গিয়ে শিশুটির বাবা রহিদুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, জন্মের পরদিনই তিনি মহানগরীর দাশপুকুর এলাকার অয়েজ উদ্দিনের ছেলে তরিকুলের কাছে ৩০ হাজার টাকায় নবজাতক শিশুকে বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর তরিকুলকে আটক করা হয়।
আটকের পর তিনি জানান, গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট এলাকার সিরাজুল ইসলাম নামে তার এক পূর্বপরিচিত লোকের কাছে শিশুটিকে দিয়েছেন। তার কাছেই শিশুটি আছে। পরে পুলিশের একটি দল গিয়ে ওই শিশুকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত রহিদুল, তরিকুল ও সিরাজের স্ত্রী বিউটি বেগমকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, রহিদুল দিনমজুরের কাজ করে পাশাপাশি কবিরাজি করেন। থানায় জিজ্ঞাসাবাদে রহিদুল জানিয়েছেন, নার্সিং হোমে তার স্ত্রীর সন্তান প্রসব হওয়াতে গিয়ে প্রায় ২৪ হাজার টাকা বিল হয়েছিল। এই টাকা তার কাছে ছিল না। এজন্যই সন্তান বিক্রি করা টাকা দিয়ে তিনি স্ত্রীকে নার্সিং হোম থেকে বাড়ি নিয়ে গেছেন। তাই তারা পুরো বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন।