অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে নবী হোসেন এর কয়েক মাস আগে মিয়ানমারের নাফ নদীর তোতাল দ্বীপ ও কোয়ানচিমং নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। সেখানে একজন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তিনটি বড় চিংড়ির ঘের লিজ নিয়ে মাছ চাষের নামে মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রম চালাতেন তিনি। পাশাপাশি সেখানে তার গরু ও মহিষের খামার রয়েছে। নবী হোসেনের সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে। বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারে তার অনুসারীও আছে।
তার গ্রুপের সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাঝেমধ্যে গোপনে ত্রাণ দেন। ত্রাণ বিতরণের ছবি তুলে এবং ভিডিও করে ত্রাণদাতা নবী হোসেন দাবি করেন যে, রোহিঙ্গাদের পরিচালিত ইউটিউব চ্যানেলে তার ভিডিও প্রচার করা হয়। এমনকি ক্যাম্প থেকে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করেন তার গ্রুপের সদস্যরা।
.png)
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের বড় সমস্যা এখন রোহিঙ্গা। আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাণের ভয়ে থাকতে হয়। কারণ ক্যাম্পজুড়ে রয়েছে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। দ্রুত সময়ে এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হলে সামনে ভয়াবহ দিন আসবে। পাশাপাশি ক্যাম্পে থেকে রোহিঙ্গাদের পরিচালিত সব ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেসবুক পেজ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
পুলিশ জানায়, নবী হোসেন ও তার গ্রুপের সঙ্গে ক্যাম্প-২২ (উনচিপ্রাং) এ এক সময় আধিপত্য বিস্তারকারী ইসলাম গ্রুপের জিয়াবো, কালাপুতু, গুনাইয়া, রাইউল্লাহর সখ্য রয়েছে। ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর উখিয়া থানায় ডাকাতির প্রস্তুতিসহ অস্ত্র মামলায় কারাভোগও করেছিলেন নবী হোসেন। তিন বছর আগে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশন (আরএসও) ছেড়ে তিনি নিজের বাহিনী গড়ে তোলেন। এক সময় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) তাকে অর্থ সহায়তা দিতো। অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার পর আরসার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
ক্যাম্পে বসবাসকারী আরএসও’র সাবেক এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নবী হোসেন এক সময় আরএসও’র কমান্ডার ছিলেন। এখন আলাদা গ্রুপ রয়েছে তার। এখানে বেতনভুক্ত সোর্স হিসেবে তার সঙ্গে কাজ করছেন অনেকে। এজন্য তাকে ধরা যায় না। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নবী হোসেন গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে মাদক ও অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো অপরাধী ক্যাম্পে ঠাঁই পাবে না। নবী হোসেনসহ সব অপরাধীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।