অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরেই ১৫ থেকে ২০টি সক্রিয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে। প্রতিটা বাহিনীতে ৩০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত সদস্য রয়েছে। তারাই মাদক ব্যবসাসহ অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পগুলো অপরাধের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে। এমনকি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও গোলাগুলি এবং খুনোখুনির মতো ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে আসা মাদকের চালান বেশিরভাগ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যায়। এ কারণে ক্যাম্পগুলো মাদক পাচারের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। এসব ক্যাম্প হয়ে প্রতিদিন শত কোটি টাকার ইয়াবা এবং নতুন মাদক ক্রিস্টাল মেথ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
.png)
সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পে প্রতিদিন কয়েকশ কোটি টাকার ইয়াবা লেনদেন হয়। আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ লাখ ইয়াবা প্রতিদিন হাতবদল হচ্ছে। মূলত ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে এবং বাইরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে।
তবে ক্যাম্পের শান্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে যাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এছাড়া ক্যাম্পে টহল জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পসহ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় পাঁচ বছরে প্রায় ২৯০টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ দমনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ বিষয়ে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আমীর জাফর বলেন, নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে রোহিঙ্গাদের নিয়মিত ব্রিফিং করছি আমরা। এছাড়া দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের জন্য কঠোর পরিণতি অপেক্ষা করছে।