রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জাতীয় সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার সশস্ত্র সন্ত্রাসী আছে। গ্রুপ আছে অন্তত অর্ধশতাধিক। এ অস্ত্রধারীরা রাতে ভয়ংকর হয়ে ওঠে। কখনো কখনো স্থানীয়দের ধরে নিয়ে যায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। তাদেরকে মুক্ত করার জন্যে দিতে হয় চাহিদা মতো মুক্তিপণ। এর ব্যত্যয় হলে অপহৃতদের হত্যাও করা হয়।
সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই চলছে। সশস্ত্র বিদ্রোহীরা সীমান্ত এলাকায় টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ এবং একটি মাদরাসায় ছয়জন খুনের পর নানামুখী প্রতিরোধের মুখে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ঘাপটি মেরে ছিল। উখিয়ার আশ্রয় ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাদের সদস্যরা সীমান্তের তুমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছিল। গত দুই মাস ধরে সীমান্তে সশস্ত্র সংঘর্ষের মধ্যে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানকারী সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
.png)
৮-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে অপরাধ নির্মূলে ‘অপারেশন রুট আউট’ শুরু হয়েছে। এতে প্রথম তিনদিনে ৭৫ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। আকটকৃতদের মধ্যে ২৮ জনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ৮-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আমীর জাফর জানান, সম্মিলিত অভিযান অব্যাহত আছে। নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে অপরাধী চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারা আরএসও এবং আরসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য।