ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রঙিন ‘মোহামেডানের’ চায়ের দোকান

মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৪৭, ৪ ডিসেম্বর ২০২২
আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রঙিন ‘মোহামেডানের’ চায়ের দোকান
আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রঙিন চায়ের দোকান

বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ নানা দলের সমর্থক হিসেবে নানা কীর্তি করেন সমর্থকরা। আর বাংলাদেশের সমর্থক হলে তো কথাই নেই। তেমনি এক বিরল কীর্তি করেছেন ২৯ বছর বয়সী মো. ইব্রাহীম হোসেন। আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রঙিন করেছেন তার চায়ের দোকান।

ইব্রাহীমের বাড়ি মাগুরা পৌর এলাকার পারনান্দুয়ালী গ্রামে। পেশায় চা বিক্রেতা হলেও ফুটবলের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা। নিয়মিত খেলেন স্থানীয় লীগগুলোতে। মাগুরা শহরের ইসলামপুর পাড়ায় একটি চায়ের দোকান আছে তার। কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে সেই চায়ের দোকানটি আর্জেন্টিনার পতাকায় মুড়েছেন এই যুবক। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজের দোকানকে এভাবে সাজিয়েছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, নব্বইয়ের দশকে যখন মো. ইব্রাহীম হোসেনের জন্ম হয়, তখন দেশজুড়ে ফুটবলে মোহামেডান আবাহনীর উন্মাদনা। এ কারণে জন্মের পর ইব্রাহীমের এক মামা তার নাম রেখে দেন মোহামেডান। এরপর থেকে মোহামেডান নামেই এলাবাকাসীর মানুষের কাছে পরিচিতি পান তিনি।

Advertisement

এ সময় কথা হয় মোহামেডান ওরফে ইব্রাহীম হোসেনের বাবা  লিয়াকত আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, দুই যুগের বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় তার চায়ের দোকান। দুই ছেলে ও তিন মেয়ে তার। তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এক ছেলে ইজিবাইক চালায়। আর ইব্রাহীম বাবার সঙ্গে থাকেন, চায়ের দোকান সামলান। 

আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রঙিন চায়ের দোকান

ইব্রাহীম বলেন, অল্প বয়স থেকেই চায়ের দোকানে বাবাকে সহায়তা করছি। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পরে আর স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তার। তবে কাজে পাশপাশি ফুটবল খেলি নিয়মিত। আমি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ভক্ত। তাই কাতার বিশ্বকাপকে ঘিরে পতাকা টানানোর পাশাপাশি পুরো দোকান আকাশি-নীল রঙে রঙিন করেছি। এছাড়া মাগুরার লীগ গুলোতে পরিচিত মুখ মোহামেডান খেলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে।

তিনি আরো বলেন, কয়েক বছর আগে ঢাকার টঙ্গীর একটি ক্লাবে তৃতীয় বিভাগে খেলেছিলেন। দ্বিতীয় বিভাগেও খেলার সুযোগ হয়েছিল। তবে আর্থিক অনটনসহ বিভিন্ন কারণে বেশি দূর যাওয়া হয়নি। ফিরে আসতে হয়েছে চায়ের দোকানে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দোকানে কাজের চাপ বেড়েছে। এসব কারণে দোকান বন্ধ রেখে আগের মতো ফুটবল খেলা সম্ভব হয় না। সামনে টুর্নামেন্ট হলে আবার খেলব। আর এখন যেহেতু বিশ্বকাপ চলছে এ কারণে দোকান এভাবে সাজিয়েছি। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে তার চায়ের দোকানে ভিড় থাকে সব সময়। এ সময়টায় বেচা-বিক্রিও বেড়েছে বলেও জানান তিনি। 

মাগুরার ক্রীড়া সংগঠক মো: ইউনুস আলী বলেন, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন মোহামেডান। চা বিক্রির ফাঁকে সময় পেলেই মাঠে চলে আসেন তিনি। ফুটবল প্র্যাকটিস করেন তিনি। মোহামেডান যদি চেষ্টা করতেন তাহলে অনেক বড় মাপের খেলোয়ার হতেন। তাকে যদি দেখভাল করা যায়, তাহলে দেশ একজন ভালো খেলোয়াড় পাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!