ফজরের আজান হলেই মাজারে আসে শত শত পাখি
ভালোবাসা দিয়ে পাখিদের হার মানিয়েছেন মাজারভক্ত হারুন। তার ডাকে খাবারের আশায় ছুটে আসে শত শত পাখি। টানা ৯ বছর ধরে এভাবেই শালিক, কবুতর, কাকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের খাবার দিচ্ছেন এ যুবক।
হারুনের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের খড়মপুর শাহপীর কল্লা শহীদ (রহ.) মাজারের ভক্ত হওয়ায় এখানেই থাকেন। মাজারের মসজিদ মাঠেই পাখিদের খাবারের আয়োজন করেন তিনি। খাবারের মধ্যে রুটি, বিস্কুট, ধান, সরিষা, গম, চাল ও মুড়ি দেওয়া হয়।
প্রতিদিন ফজরের আজান শেষ হলেই মাজারের মসজিদের ছাদ কিংবা আশপাশের গাছে বসে কিচিরমিচির শব্দে ডাক শুরু করে নানান প্রজাতির শত শত পাখি। নামাজ শেষ হলে খাবার নিয়ে মাঠে ছুটে যান হারুন। এরপর পাখিদের খাবার দেন। খাওয়া শেষে নিজ নীড়ে ফিরে যায় এসব পাখি।

হারুন বলেন, আমি খড়মপুর শাহপীর কল্লা শহীদ (রহ.) মাজারের একজন ভক্ত। ছোটবেলা থেকেই পাখিদের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে। এখন পাখিদের খাওয়ানোর দায়িত্ব পেয়ে ভালোবাসা আরো বেড়ে গেল। আমাকে দেখলেই ছুটে আসে পাখিরা।
খড়মপুর মাজারের ভক্ত মো. আনোয়ার বলেন, হারুন একজন পাখিভক্ত। তাকে দেখলেই নিচে চলে আসে পাখির দল। ভোরে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ আর খাবার খাওয়ার দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে।
ভক্ত খোরশেদ মিয়া বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার মাজারে আসা হয়। শুক্রবার সকালে এখান থেকে বাড়ি যাই। কিন্তু ভোরে পাখিদের খাবার খাওয়ার দৃশ্য সত্যিই ভালো লাগে।
খড়মপুর মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ মাজার এলাকায় বিভিন্ন জাতের পাখি রয়েছে। কয়েক বছর ধরে এসব পাখিকে খাবার দেন খাদেমরা। এজন্য এ দায়িত্ব পালন করছেন হারুন।