ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক 

আশরাফ গোলাপ, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) 
প্রকাশিত: ১৫:০৮, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২
বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক 
জীবন-জীবিকায় টিকে থাকার সংগ্রাম চলছে হাজার হাজার কৃষক পরিবারের। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় নেই কোনো বৃহৎ শিল্প কারখানা। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষের জীবন-জীবিকা কৃষিনির্ভর। উপজেলার ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করে জীবন-জীবিকায় টিকে থাকার সংগ্রাম চলছে হাজার হাজার কৃষক পরিবারের। 

ধান, গম, পাট, সরিষা, আলুসহ বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি চাষাবাদ করেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে বেশিরভাগ কৃষক প্রধান ফসল হিসেবে আমন ও ইরি-বোরো মৌসুমে ধান চাষাবাদ করেন। আমন ও ইরি-বোরো মৌসুমের চাষাবাদের পরে একই জমিতে চাষাবাদ করে বাড়তি ফসল উৎপাদনে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কৃষককে উৎসাহিত করে যাচ্ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধান কেটে নেয়ার পর অনেক কৃষক ওই জমিতে সরিষা চাষাবাদ করছেন। এরইমধ্যে জমিতে সরিষা বীজ বপন কাজ শেষ করেছেন চাষিরা। প্রস্তুতি নিচ্ছেন সরিষা তুলে নিয়ে সেই জমিতে ও ধান কাটার পর খালি পড়ে থাকা জমিতে ইরি-বোরো মৌসুমের ধান চাষাবাদের। সেজন্য কৃষকদের বর্তমানে ব্যস্ততা বোরোর বীজতলা তৈরিতে।

আরো পড়ুন >>> অফিসে যাওয়া হলো না ফেরদৌসের

চিরাং ইউপির পূর্বরায় গ্রামের কৃষক হাসেম ও বজলু মিয়া জানান, আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ শেষ করেছেন। এখন তারা জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষাবাদের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বীজতলা তৈরির জন্য জমিতে সেচ দিয়ে পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ দিচ্ছেন তারা। 

দেওপাড়ার কৃষক বুলবুল জানান, তিনি আমন মৌসুমে উপসহকারী কৃষি অফিসারের পরামর্শে তার ২ বিঘা জমিতে ব্রি-৮০ জাতের স্বল্পমেয়াদী ধান চাষাবাদ করেন। কৃষি প্রণোদনা হিসেবে তিনি বোরো বীজ পেয়েছেন। বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য তিনি ব্রি-৮৪ ধানের বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

আরো পড়ুন >>> ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩ ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ গেল চালকের

উপজেলার খালিজুরা গ্রামের কৃষক শহিদ মিয়া বলেন, তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চারার চাহিদা পূরণের জন্য তিনি কৃষি অফিসের পরামর্শে এরই মধ্যে এক বিঘা জমিতে ব্রি-৭৪ বীজ বপন কাজ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমান আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বীজতলা থেকে সুস্থ সবল চারা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।         

উপজেলা কৃষি অফিসার এ কে এম শাহজাহান কবীর জানান, উপজেলায় ২০ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কৃষি প্রণোদনা হিসেবে ৩ হাজার ৫০০ কৃষককে উফসী এবং ৪ হাজার ৪০০ কৃষককে হাইব্রিড মোট ৭ হাজার ৯০০ কৃষককে বোরো বীজ প্রদান করা হয়েছে।

আরো পড়ুন >>> ওভারটেকিং করতে গিয়ে বাস-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, আহত ৩০

তিনি আরো জানান, উপজেলায় বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বীজতলায় বীজ বপন কাজ চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪০০ হেক্টর জমিতে বীজ বপন করা হয়েছে। সুস্থ সবল চারা উৎপাদন ও চাষাবাদ করে কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারে সেজন্য আমাদের সব উপসহকারী কৃষি অফিসার মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান কৃষকের মাধ্যমে চাষাবাদ করে স্থানীয়ভাবে বীজের চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!