ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে কৃষিজমি

মাসুম হোসেন, বগুড়া
প্রকাশিত: ১৬:৪৪, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২
অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে কৃষিজমি
বগুড়ার ব্রিকস ইটভাটা -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা তিনটি ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়াসহ জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনার মাসখানেক পর তিন ইটভাটার মধ্যে দুটির চিমনি নতুন করে নির্মাণ করে আবারো কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সপ্তাহখানেক ধরে দুই ইটভাটায় কৃষি জমির উর্বর মাটি পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়নের সুজাবাদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিনটি ইটভাটার চিমনি ভেঙে দেন সহকারী কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাইম। হাইকোর্টের আদেশে অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তিনি।

সেই অভিযানে সুজাবাদ এলাকার মীর ব্রিকস, বগুড়ার ব্রিকস ও বদর ব্রিকস ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ইটভাটা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তিনজনকে ১০ হাজার করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে ওই তিন ইটভাটার চিমনিসহ অন্যান্য অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- আবু জাফর (মীর ব্রিকস), জুয়েল (বগুড়ার ব্রিকস) ও মাহবুবুর রহমান বুলু (বদর ব্রিকস)। ভ্রাম্যমাণ আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেন তারা।

অভিযানে পরিবেশ অধিদফতরের বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ ও পরিদর্শক মুহাম্মদ মিকাইল হোসাইনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই সময় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাইম বলেন, হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে অভিযান পরিচালনা করে ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে তিন ইটভাটায় জরিমানা করাসহ গুড়িয়ে দেওয়া হয়। 

তবে, ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানের কিছুদিন পর থেকেই গুড়িয়ে দেওয়া তিনটি ইটভাটার মধ্যে মীর ব্রিকস ও বগুড়ার ব্রিকস চিমনি নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করে। খুব দ্রুত তারা ইটভাটার চিমনি নির্মাণ করে ফেলে। পরবর্তীতে সপ্তাহখানেক হলো ওই দুই ইটভাটায় কৃষিজমির উর্বর মাটি পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করা হচ্ছে।

মীর ব্রিকস পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আবু জাফর ও বগুড়ার ব্রিকস পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আবু সাইদ বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে ইটভাটার কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি নিয়েছেন তারা। তারা শুধু এই মৌসুমেই ইট প্রস্তুত করবেন। পরে ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাইম বলেন, মীর ব্রিকস ও বগুড়ার ব্রিকস ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়ার পরও তারা নতুন করে চিমনি নির্মাণ করে কার্যক্রম শুরু করেছে-তা আমার জানা ছিল না। ওই এলাকায় স্থানীয় সড়ক, কৃষিজমিসহ ঘনবসতি আছে। তারা কোনোভাবেই ইটভাটা নির্মাণের অনুমতি পাবে না।

পরিবেশ অধিদফতরের বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ বলেন, ইটভাটার চিমনি নির্মাণসহ নতুন করে কার্যক্রম শুরু করায় ওই দুই ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলায় অবৈধভাবে বর্তমানে প্রায় ৪০টি ইটভাটা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ওই উপজেলার একাধিক স্থানের কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে ইটভাটায় সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে মাটি উত্তোলনের অনেক পয়েন্ট বন্ধ রয়েছে। তবে উপজেলার খলিসাকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামে মাটি তোলা বন্ধ হয়নি। সেখানে প্রতিদিন রাতে অ্যাসকেভেটর দিয়ে মাটি তোলা হচ্ছে। পরে ট্রাকে করে ইটভাটায় পাঠানো হচ্ছে কৃষিজমির উর্বর মাটি।

খলিসাকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন শ্যামল বলেন, মাস দুয়েক আগে খলিসাকান্দি গ্রামে মাটি উত্তোলন শুরু করেন উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান। সেখানে ৫০ বিঘারও বেশি কৃষি জমিতে ৩০-৪০ ফুট গভীর করে মাটি তোলা হচ্ছে। এতে আশেপাশের কৃষিজমিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি তোলা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের তেমন কোনো ভূমিকা চোখে পড়ে না। 

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জানান, আমি মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নই। আমার একটি ইটভাটা রয়েছে। মাটি ব্যবসায়ীরাই খলিসাকান্দি মধ্যপাড়া গ্রাম থেকে মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছেন। 

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদা খানম বলেন, অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি উত্তোলনকারী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!