ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শিশুকন্যাকে খালার বাড়ি পাঠিয়ে ‘গুম’ নাটক, অতঃপর...

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০০, ১৫ জানুয়ারি ২০২৩
শিশুকন্যাকে খালার বাড়ি পাঠিয়ে ‘গুম’ নাটক, অতঃপর...
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল জাহাঙ্গীরের। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পাঁচ বছর বয়সী মাইশাকে গুমের নাটক সাজান তিনি। শুধু তাই নয়, মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন জাহাঙ্গীর। তবে এ নিয়ে তৎপর ছিল পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভিন্ন তথ্য পায়। পরে মাইশার বাবা-মাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে মেয়েকে লুকিয়ে রাখার নাটকের কথা স্বীকার করেন তারা। পরে শনিবার শিশু মাইশাকে তার খালার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। 

ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার ওসি মো. আলী হোসেন।

তিনি জানান, জমি নিয়ে উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের দুল্লী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একই উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের সাতাশি গ্রামের আবদুল মজিদ গংদের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে প্রতিপক্ষের লোকজনকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে মেয়ে মাইশাকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। এ ঘটনায় গত শুক্রবার কেন্দুয়া থানায় নিখোঁজের জিডি করেন মাইশার বাবা জাহাঙ্গীর।

Advertisement

জিডির বরাত দিয়ে ওসি জানান, গত ১১ জানুয়ারি জাহাঙ্গীর বাড়িতে ছিল না। তার স্ত্রী মেয়ে মাইশাকে নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পর দিন সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখেন মাইশা বিছানায় নেই। বিষয়টি তার স্ত্রী জাহাঙ্গীরকে ফোনে জানালে তিনি বাড়িতে এসে মেয়ে মাইশাকে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে না পেয়ে থানায় জিডি করেন এবং থানা পুলিশ বিষয়টি ডায়েরিভুক্ত করে গুরুত্বসহকারে অনুসন্ধান শুরু করে।

এদিকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহসহ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং মাইশার বাবা-মাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী মেয়েকে লুকিয়ে রাখার নাটকের কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের কথামত শনিবার শিশু মাইশাকে তার খালার বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বাহেরচর গ্রাম থেকে স্থানীয় দাউদকান্দি থানা পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে কেন্দুয়া থানা পুলিশ।

তিনি আরো বলেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে উদ্ধার হওয়া শিশু মাইশাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!