ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টাকা আত্মসাতে ছিনতাই নাটক সাজিয়ে ফেঁসে গেলেন দুই বন্ধু

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:২৫, ১৩ জানুয়ারি ২০২৩
টাকা আত্মসাতে ছিনতাই নাটক সাজিয়ে ফেঁসে গেলেন দুই বন্ধু
আটক দুই বন্ধু

বগুড়ার নন্দীগ্রামে পৌনে ১৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ফেঁসে গেছেন দুই বন্ধু। এ ঘটনায় তাদের আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন। আটকরা হলেন- নন্দীগ্রামের ভাটরা ইউনিয়নের বিলশা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ৩৩ বছর বয়সী জিয়াউল হক জিয়া ও বেলঘড়িয়া গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে ৩০ বছরের সোহেল রানা।

ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ধান কেনাবেচার ব্যবসা নিয়ে জিয়া ও রানার সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী মিনার আলীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ উপজেলা থেকে ধান কিনে বিভিন্ন কোম্পানিতে সরবরাহ করতেন তারা। ব্যবসার লেনদেনের টাকা রানার ইসলামী ব্যাংক নন্দীগ্রাম শাখার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো। এর মধ্যে ধান ব্যবসায়ী মিনার আলীর টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন দুই বন্ধু।

Advertisement

একপর্যায়ে গত বুধবার মিনার আলীর কথামতো রানার অ্যাকাউন্টে ২১ লাখ টাকা পাঠান অ্যারোমেটিক অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড লিমিটেডের মালিক। মিনারের কথা মতো ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা দুটি অ্যাকাউন্টে পাঠান রানা। ধান কেনার জন্য বাকি ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে যান দুই বন্ধু।

একই দিন সন্ধ্যায় মিনারকে ফোন করে রানা জানান, ব্যাংক থেকে ফেরার পথে ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিনতাই হয়ে গেছে। একই কথা জানান রানার বাবা মকবুলও। উপজেলার সিমলা বাজার থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে ঢাকারগাড়ি ব্রিজ এলাকায় তার ছেলের ব্যবসায়ী পার্টনার জিয়া ডাকাতির কবলে পড়েন বলে জানান।

ওসি বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সাজানো নাটক বলে সন্দেহ হয়। টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে বুধবার রাতেই থানায় আসেন জিয়া ও রানা।

তারা জানান, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন জিয়া। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার পথরোধ করে টাকার ব্যাগ নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। থানায় অভিযোগ করলেই পুলিশ সন্দেহ করবেন না বলে ভেবেছিলেন জিয়া ও রানা।

পৌরসভার সিসিটিভির ফুটেজ দেখে টাকা ছিনতাই নাটকের রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ। দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৌর শহরের ওমরপুর এলাকার একজনের বাড়ি থেকে ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। বাকি এক লাখ টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি। বৃহস্পতিবার জিয়া ও রানাকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শুক্রবার থানায় মামলা করেন ধান ব্যবসায়ী মিনার আলী।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!