চিৎকারই কাল হলো শিহাবের
নাসির মিয়া। কাজ করতেন মুরগির দোকানে। সময় পেলেই দেখতেন ব্লু ফিল্ম কিংবা পর্নো ভিডিও। সেদিন দুপুরেও বাসায় ল্যাপটপে দেখছিলেন ব্লু ফিল্ম। বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মধ্যেই ‘মুরগি চাচ্চুর’ বাসায় আসে ছয় বছর বয়সী শিহাব। শিশুটিকে দেখেই মাথায় বিকৃত চিন্তা জাগে নাসিরের। মুহূর্তেই কাছে ডেকে নিয়ে শিহাবকে বলাৎকারের চেষ্টা করেন। বাঁচার চেষ্টায় ছেলেটি চিৎকার দিতেই মুখ চেপে ধরেন মুরগির দোকানে থাকা এ কর্মচারী। আর ততক্ষণেই মারা যায় ছেলেটি।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় বছর পর অবশেষে ধরা পড়েছেন নাসির। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি।
গ্রেফতার নাসির নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সোনাপুর জমিদারহাট গ্রামের পাকমুন্সিহাট এলাকার কামাল মিয়ার ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরের পুবাইল থানার মাজুখানবাগের টেক এলাকার সাঈদ আহমেদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। শিহাব মাজুখান উত্তরপাড়া এলাকার জুয়েলের ছেলে।
.png)
পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরে দুপুরে নিখোঁজ হয় শিহাব। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরদিন বাড়ির অদূরে মাজুখান গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের নানি নাছিমা বেগম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, মাজুখান উত্তরপাড়ায় মো. ফারুকের মুরগির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন নাসির। তবে দোকানে সময় দিতেন না ফারুক। নাসির নিজেই মুরগি ও মুরগির খাবার বেচাকেনা করতেন। ফিড খাওয়ার সময় মুরগি তাড়ানোর জন্য খেলনা পিস্তল দিয়ে মুরগিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তেন তিনি।
এজন্য মাঝে মধ্যে তার কাছে দোকানে আসতো শিহাব। খেলনা পিস্তলের ছোড়া গুলি কুড়িয়ে আনতো শিশুটি। তাকে মাঝে মধ্যে চিপস কিনে দিতেন নাসির। শিশুটি নাসিরকে ‘মুরগি চাচ্চু’ বলে ডাকতো। এভাবে গড়ে ওঠে দুজনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।
২৫ সেপ্টেম্বর বাসায় নিজ কক্ষে ল্যাপটপে পর্নো ভিডিও দেখছিলেন নাসির। দুপুরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সময় তার কক্ষে আসে শিহাব। ওই সময় নাসিরের মাথায় বিকৃত চিন্তা আসে। একপর্যায়ে বলাৎকারের চেষ্টা করলে চিৎকার দেয় শিশুটি। পরে মুখ চেপে ধরলে মারা যায় শিশুটি। এরপর লাশটি খাটের নিচে রেখে দরজা লাগিয়ে বাইরে চলে যান নাসির। পরদিন ভোরে লাশটি সালাম মুন্সির বাড়ির পাশে ফেলে রাখেন তিনি।
ঘটনার তিনদিন পর এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে যান নাসির। সেখানে দুদিন থাকার পর ফিরে আসেন। এর এক সপ্তাহ পর ৪০ দিনের জন্য চিল্লায় যান তিনি।
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, নাসির বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন। ল্যাপটপে পর্নো ভিডিও দেখে উত্তেজিত হয়ে শিহাবকে বলাৎকারের চেষ্টা করেন তিনি। এরপর পাশবিক নির্যাতন করে হত্যাকাণ্ড ঘটান।
তিনি বলেন, শিহাব হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ জানুয়ারি মাজুখান এলাকা থেকে নাসিরকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন তিনি। ১৯ জানুয়ারি তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।