প্রতিশোধ নিতেই ‘বিশেষ অঙ্গ’ কেটে হত্যা করেন নাহিদ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অটোচালকের গলা ও বিশেষ অঙ্গ কেটে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নাহিদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বুধবার ভোরে কালিয়াকৈর থানাধীন হরিণহাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামির কাছ থেকে ভুক্তভোগী আজাদের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন এবং তার দেওয়া তথ্যমতে হরিণহাটি এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মো. নাহিদ হোসেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার আতাউর মন্ডলের ছেলে। নিহত আজাদ গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের হালিম মিয়ার ছেলে। আজাদ পেশায় একজন অটোচালক ছিলেন।
পোড়াবাড়ী গাজীপুর র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ এস এম মাঈদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রায় দুই বছর পূর্বে আসামি নাহিদ গাজীপুরের কালিয়াকৈর হরিণহাটি এলাকায় এসে ভ্যানগাড়িতে করে কাঁচা তরকারির ব্যবসা শুরু করেন। একই এলাকায় অটোরিকশা চালানো এবং কাঁচা তরকারি আনা নেয়ার মাধ্যমে নাহিদ ও আজাদে মধ্যে পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে কাঁচা তরকারির ব্যবসা বাদ দিয়ে আসামি নাহিদও একটি অটোরিকশা করেন।
.png)
আসামি নাহিদ চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি অটোরিকশার ব্যাটারি কেনার জন্য মানিকগঞ্জের আমতলীর আলোর প্রত্যাশা সমবায় সমিতি থেকে নিজ নামে ৫০ হাজার টাকা লোন নেন। পরবর্তীতে গাজীপুরে ফিরে এসে ঐ টাকা দিয়ে ব্যাটারি কিনতে যাওয়ার পথে আজাদের সঙ্গে দেখা হয় তার। তিনি আজাদকে তার গাড়িতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এ সময় তারা অটোরিকশায় সফিপুরের নির্জন জঙ্গলের মাঝখানের রাস্তায় পৌঁছালে আজাদ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য গাড়ি থামান। গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গে দুইজন অপরিচিত লোক ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নাহিদের সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন।
এ ছিনতাইয়ের ঘটনায় আসামি নাহিদ ভুক্তভোগী আজাদের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ করে প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নাহিদ আজাদকে ফোন দিয়ে কাঁচা তরকারি পরিবহনের জন্য ডাকেন এবং সফিপুর বাজারের ফুটপাত থেকে ৩০ টাকা দিয়ে একটি চাকু কিনে পকেটে লুকিয়ে রাখেন। এরপর কালিয়াকৈর থানাধীন গোসাত্রা পাড় হয়ে চান্দাবহ কবরস্থানের মোড়ে আসলে থামাতে বললে আজাদ অটোটি থামান। এ সময় নাহিদ আজাদকে কাঁচা তরকারি আনার কথা বলে কৌশলে মাঠের মধ্যে অন্ধকারে নিয়ে যান। একপর্যায়ে নাহিদ আজাদকে গলা টিপে ধরে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধ করে চাকু দিয়ে গলা কাটেন। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য আজাদের বিশেষ অঙ্গ কেটে দেহ হতে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ফেলে অটোটি নিয়ে পালিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটিও ঘটনাস্থলে ফেলে আসেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন গোসাত্রা গ্রামের পশ্চিম চকের এলাকার একটি সবজিক্ষেতের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।