ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কীটনাশকে ৫০ বিঘা জমির আলু ক্ষেত নষ্ট

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২৮, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
কীটনাশকে ৫০ বিঘা জমির আলু ক্ষেত নষ্ট
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভেজাল কীটনাশক স্প্রে করে লালমনিরহাটের আলু চাষিদের কপালে হাত পড়েছে। জেলার আদিতমারীতে ভেজাল কীটনাশক স্প্রে করে প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির আলু ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ চাষিদের।

ক্ষতিপুরণসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে দুই গ্রামের চাষিরা দলবদ্ধভাবে বৃহস্পতিবার উপজেলা কৃষি অফিসার বরাবরে পৃথক দুইটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এরপরও মেলেনি কোনো প্রতিকার।

জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউপির চাষিরা আলুসহ নানান সবজি চাষাবাদ করে সংসার পরিচালনা করেন। বেশ কিছু কৃষক রয়েছেন বাণিজ্যিকভাবে আলুর চাষ করে থাকেন। প্রতি বছর আলুর বাম্পার ফলনে বেশ লাভবান হচ্ছে এ অঞ্চলের চাষিরা। এ বছরও লাভের আশায় ব্যাপকহারে আলুর চাষ করেছেন তারা। শীতকালে আলু চাষের উৎকৃষ্ট সময়। তাই আলু চাষে সময় মতো বীজ সার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। আগাম আলু উঠে বাজারে গেলেও মৌসুমের আলুই ব্রীজসহ সারা বছরের জন্য রাখা হয় হিমাগারে।

Advertisement

মৌসুমের আলু আর কিছু দিন পরে সংরক্ষণ শুরু করবে এ অঞ্চলের চাষিরা। শীতের মাঝামাঝি সময় শীতের তীব্রতা ও গাছ পচা রোগ থেকে আলু গাছ রক্ষায় চাষিরা কীটনাশক স্প্রে করে থাকেন।

এসব চাষিরা ফেয়ার এ্যাগ্রো কেমিক্যালস সার্ভিস লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পরামর্শে ‘মেনকোজেব’ স্প্রে করেন। এ কীটনাশক স্প্রে করার দুই দিন পর আলু গাছের পাতা পুড়ে মরে যেতে শুরু করে। ওই কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে আবারো ওই কোম্পানির অন্য ওষুধ স্প্রে করেন। কিন্তু কোনোভাবেই আলু ক্ষেত রক্ষা করতে পারেননি চাষিরা। কোম্পানির প্রতিনিধিসহ ডিলারদের কাছে ঘুরে ব্যর্থ হয়ে বৃহস্পতিবার বড়াবাড়ি ও বড় কমলাবাড়ি গ্রামের চাষিরা দলবদ্ধ হয়ে আদিতমারী উপজেলা কৃষি অফিসার বরাবরে পৃথক দুইটি অভিযোগ দায়ের করে ক্ষতিপূরণসহ ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

উপজেলা সদরের বড়াবাড়ি গ্রামের আলু চাষি আফছার উদ্দিন বলেন, ৭৫ শতাংশ জমিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে আলু লাগিয়েছি। ফেয়ার এ্যাগ্রো কেমিক্যালস সার্ভিস লিমিটেডের ডিলার লাবনী এন্টারপ্রাইজের প্রোভাইডার কামাল হোসেনের পরামর্শে ‘মেনকোজেব’ স্প্রে করি। এর পরদিন আলু গাছ পুড়ে যায়। পরে পুনরায় তারই পরামর্শে আবারো ওষুধ স্প্রে করেও ক্ষেত রক্ষা করতে পারি নি। এখন কোম্পানির লোকজন টালবাহনা করছে। প্যাকেটের গায়ে এক হাজার ৮১ টাকা কেজি মূল্য লেখা থাকলেও বিক্রি করেন মাত্র ৭৫০ টাকা। আলু মরে যাওয়ায় প্রায় লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

চাষি ছকমল হোসেন বলেন, খেয়ে না খেয়ে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৪০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করেছি। ‘মেনকোজেব’ স্প্রে করে সব মরে গেছে। গতবছর এ জমি থেকে ৮০ হাজার টাকার আলু বিক্রি করেছি। এবারো লাখ টাকা বিক্রির স্বপ্ন পুড়ে গেলো ভেজাল ওষুধে। এ ওষুধ স্প্রে করে গ্রামের ১৫-২০ জন চাষির কয়েক বিঘা আলুর ক্ষেত মরে গেছে।  

চাষি এরশাদুল হক বলেন, কৃষি অফিসের লোকজন অভিযানের নামে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অনুমোদন দেন মানহীন এসব ভেজাল ওষুধের। এসব ওষুধ বিক্রি হলে মোটা অংকে কমিশন পান কৃষি বিভাগ, ডিলার ও কোম্পানির লোকজন। মরে যাচ্ছে শুধু গরিব চাষিরা।  

বড় কমলাবাড়ি গ্রামের আলু চাষি জয়নাল আবেদিন বলেন, শুধু মাত্র ‘মেনকোজেব’ স্প্রে করার দুই দিন পরেই নিজের ১২ বিঘাসহ এ গ্রামের প্রায় ৪০ বিঘা জমির আলু ক্ষেত পুড়ে মরে গেছে। মরা ক্ষেতের নমুনাসহ কৃষি অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু কৃষি বিভাগ কোনো কর্ণপাতই করছেন না। কয়েক লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। প্রতি বছর বাণিজ্যিকভাবে আলু চাষাবাদ করেই চলে সংসার। এ বছর উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা বাড়ির খাবার আলুটুকুও পেলাম না। কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ফেয়ার এ্যাগ্রো কেমিক্যালসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

আদিতমারী উপজেলা কৃষি অফিসার ওমর ফারুক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, মাঠকর্মীদের তদন্তে চাষিদের লিখিত দুই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তবে আমার কিছুই করার নেই। যে ওষুধে চাষিরা ক্ষতির কথা বলেছেন তার রেজিস্ট্রেশন ও বাজারজাতের অনুমতি রয়েছে। যার কারণে কোম্পানির বিরুদ্ধে আমার করার কিছুই নেই। খুব বেশি হলে প্রতিবেদন ওপরে পাঠাতে পারব। চাষিরা মনে করলে কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। কিন্তু আমি সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারব না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!