শিমুল ফুলে সেজেছে প্রকৃতি
বসন্তের আগমনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকৃতি সেজেছে রঙিন সাজে। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে নয়নাভিরাম শিমুল ফুল। শিমুলে ফুল প্রকৃতিকে যেন সাজিয়েছে এক নতুন রূপে।
শিমুল গাছে বসন্তের শুরুতেই ফুল ফোটে। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে যায়। এ সময় ফলগুলো শুকিয়ে গিয়ে ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে যায় এর বীজ। এ বীজ থেকে জন্মানো শিমুল গাছ প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে ওঠে। বালিশ, লেপ ও তোষক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। শিমুল গাছ কেবল সৌন্দর্যই বিলায় না, এই গাছে রয়েছে নানা উপকারিতা। একইসঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্ব বহন করে।
প্রাকৃতিকভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন হচ্ছে শিমুল গাছ। এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এখনো নানা রোগের চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করেন। শিমুল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘বোমবাক্স সাইবা লিন’। বীজ ও কাণ্ডের মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার হয়।
আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে শিমুল ফুল। বসন্তের সঙ্গে প্রকৃতি যেন নিজ রূপে সেজে উঠেছে। রাস্তার দুইপাশে, পুকুরপাড়ে শিমুল গাছে ফুল বাতাসে দোলা খাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। পথচারীসহ দর্শনার্থীদের মন কাড়ছে শিমুল ফুল। একইসঙ্গে গাছে গাছে আসতে শুরু করেছে নতুন পাতা। লাল ফুলের কারণে পুরো এলাকা হয়ে উঠেছে রক্তিম আভা।
পৌরশহরের তারাগন এলাকার মো. রমজান মিয়া বলেন, প্রতি বছরই এ সময় উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা ঘাটের দুইপাশে শিমুল গাছে ফুল দেখা যায়। এগুলো দেখতে খুবই সুন্দর লাগে।
উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিনগর এলাকায় ঘুরতে আসা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, শিমুল ফুল মুগ্ধ করবে যে কাউকে। আসলে কাজের চাপ থাকায় ঘোরার সুযোগ হয়ে ওঠেনা। অনেক দিন পর সুযোগ হওয়ায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। শিমুল ফুল দেখতে পেয়ে খুবই ভালো লেগেছে।
কৃষক মো. মোশারফ হোসেন জানান, তার বাড়ি সংলগ্ন পুকুর পাড়ে দুইটি শিমুল তুলার গাছ রয়েছে। এরই মধ্যে শিমুল ফুল এসেছে। তিনি আশা করছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার তিন হাজার টাকার বেশি তুলা বিক্রি করতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, শিমুল ফুল না ফুটলে যেন বসন্ত আসে না। বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিবেশের সঙ্গে সংস্কৃতি চর্চার একটি যোগসূত্র রয়েছে। ঠিক সেভাবেই বসন্ত এলে ফোটে শিমুল ফুল। ঋতু বৈচিত্র্যের এসব অনুষঙ্গকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদেরই।