হোসনে আরা বেগম মেয়েকে পরে একটি বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন। ঐ বাড়ির মালিকের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে ঐ মামলার তদন্তে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
রোববার রাতে পাঁচলাইশ থানার বদনা শাহ মাজার এলাকা থেকে হোসনে আরা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃত হোসনে আরা বেগম রাঙ্গামাটি সদর থানার আব্দুল খালেক ভূঁইয়ার মেয়ে।
.png)
এ বিষয়ে পিবিআই জানায়, হোসনে আরা বেগম গত বছরের ২৭ এপ্রিল মো. রাশেদ ও লিমু আক্তার নামে এক দম্পতির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে ১১ বছর বয়সী মেয়ে রাশেদা আক্তারকে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তে নেমে পিবিআই শিশু রাশেদা আক্তারকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠান।
জবানবন্দিতে শিশু রাশেদা জানায়, তার মা হোসনে আরা বেগম পলিথিন মুড়িয়ে তার পা পুড়ে দিতেন। পরে পোড়া পা দেখিয়ে বদনা শাহ মাজারের সামনে ভিক্ষা করতো সে। আর ভিক্ষায় পাওয়া টাকা দিয়ে তার মা জোয়ার আসরে লুডু খেলতেন। একটি দুর্ঘটনায় রাশেদার ছোট ভাইয়ের পা ভেঙে যায়। চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন হলে রাশেদ ও লিমু তার মাকে আর্থিক সহায়তা করেন। পরে ঐ দম্পতির বাসায় রাশেদাকে গৃহকর্মীর কাজ দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে আসে, টাকা আদায়ের জন্য রাশেদ ও লিমুর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা করেন হোসনে আরা। পিবিআই অপহরণের ঘটনাটি সত্য নয় মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে সন্তানের পা পুড়িয়ে ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় জড়ানোর দায়ে হোসনে আরা বেগমের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৯ নভেম্বর পাঁচলাইশ থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মর্জিনা আকতার জানান, হোসনে আরা বেগম নিজের মেয়েকে দিয়ে তিনি ভিক্ষা করাতেন। এজন্য মানুষের সহানুভূতি আদায় করতে পলিথিন মুড়িয়ে সন্তানের পা পুড়ে ক্ষত তৈরি করতেন। আর ভিক্ষার টাকায় জুয়া খেলতেন তিনি। স্বেচ্ছায় মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে নিয়োগ দেন তিনি। পরে টাকা আদায়ের জন্য গৃহ মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন হোসনে আরা।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত হোসনে আরা বেগমকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।