ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কয়রায় মাজরা আতঙ্কে বোরো চাষিরা

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৫০, ২৮ মার্চ ২০২৩
কয়রায় মাজরা আতঙ্কে বোরো চাষিরা
কয়রায় মাজরা আতঙ্কে বোরো চাষিরা -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খুলনার কয়রা উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে মাজরা ও ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত শতশত বিঘা জমির ধান। কৃষকরা আতঙ্কে থাকলেও খবর নেই কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের।

জানা গেছে, বিভিন্ন ইউনিয়নে বোরো ধানক্ষেতে ফলন মুখে ব্যাপকহারে রোগ বালাই দেখা দিয়েছে। কিন্তু কৃষকরা অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ হারে ওষুধ প্রয়োগ করেও মাজড়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারেনি অনেক ধানক্ষেত। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কখনও এসব ধান চাষিদের খোঁজ খবর না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়রা সদর ইউনিয়নে ২ জন উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব থাকলেও এই ইউনিয়নের বেশিরভাগ কৃষক তাদের চেনেন না। অনুরূপ অন্যান্য ইউনিয়নেও ব্যাপকহারে মাজরায় অনেক ধানক্ষেত নষ্ট করলেও কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের ক্ষেত পরিদর্শন না করার অভিযোগ উঠেছে।

কয়রা ইউনিয়নের চাষি সালাম শেখ বলেন, আমি এ বছর ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। অধিকাংশ জমিতে ছত্রাকের আক্রমণে ধান চিটা হয়ে গেছে এবং মাজরার আক্রমণে ধান গাছ কেটে দিচ্ছে। ১ বিঘা জমিতে মাজরার কীটনাশক প্রয়োগ করতে ২-৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ ৪ মাস হলো ধানচাষ করেছি কৃষি অফিস থেকে কেউ এসে দেখেও না, পরামর্শও দেয় না।

সংকর মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, আমি ৩ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। আমার অধিকাংশ জমিতেই ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষি অফিসের লোকজন অফিসে বসে থাকে। মাঠে কখনও তারা নামে না। এত কীটনাশক প্রয়োগ করলাম কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।

মহসিন সানা অভিযোগ করে বলেন, ধান আবাদ পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অথচ আমরা সঠিক কোন পরামর্শ পাচ্ছি না। কোনো রকমের সভা সমাবেশ লিফলেট দিয়েও আমাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে না। 

মহারাজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হক বলেন, বোরো ধানে এ বছর মাজরায় এত আক্রমণ কিন্তু কৃষি অফিসের কোন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কোন পরামর্শ পায়নি। উত্তরবেদকাশি, বাগালীও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে মাজরা পোকায় ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয় উপজেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার দাস বলেন, অফিসে জনবল কম থাকায় তারা অফিসিয়াল কাজ করেন। এছাড়া ধান ফোলা, মুখে মাজরার আক্রমণ কিছুটা কমেছে বলে একাধিক কৃষক আমাকে জানিয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!