শনিবার (১ এপ্রিল) রাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নলছিটি থানার এসআই মো. এনামুল হাসানের নেতৃত্বে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে র্যাব-৩ এর সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মো. মিলন সিকদার ওরফে চোপা মিলন (৩৮) নলছিটি উপজেলার চৌদ্দবুড়িয়া এলাকার মৃত আব্দুল মান্নান সিকদারের ছেলে।
.png)
পুলিশ জানায়, আসামি মিলন ও রজব আলী ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তারা দুজনেই মাদকাসক্ত ছিলেন। পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে দলবেধে মাদকসেবন করতেন। একদিন মাদক সেবনের সময় তাদের হাতে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। তখন রজব আলী তাদের মাদক সেবনের সঙ্গী সজিব নামে একজনের মোবাইল জামানত রেখে মাদকের টাকা সংগ্রহ করে সবাই মিলে মাদকসেবন করেন। পরবর্তীতে জামানতের টাকা পরিশোধ না করেই তারা ভিকটিমের নিকট জামানত দেওয়া মোবাইলটি দাবি করেন।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। শত্রুতার জের ধরে রায় সাহেবপাড়া এলাকার ছেলেরা উক্ত মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি জিকুর নেতৃত্বে আসামি মো. মিলন সিকদার ওরফে চোপা মিলনসহ রহিম ওরফে আরিফ, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে টাইগার, মন্টি, আকাশ ওরফে রাসেল, ফরহাদ হোসেন ওরফে ফরহাদ, সজিব আহমেদ খান, শাহীন চাঁন খাদেম ও মোহাম্মদ আলী হাওলাদার বাবু ভিকটিম রজব আলীকে শায়েস্তা করার জন্য পরিকল্পনা করেন।
২০১১ সালের ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর কোতোয়ালি থানাধীন নবাবপুরে মোবাইলের দোকানে রজব আলী টাকা রিচার্জ করতে যান। পরে সেখান থেকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জিকুসহ আরো ৪-৫ জন মিলে রজব আলীকে ঢাকা জজ কোর্টের পিছনে ১৬/এ কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের পূর্ব পাশে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গিয়ে রজব আলীকে ছুরিকাঘাত খুন করেন তারা।
ওই ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় রজবের ভাই জুম্মন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০১২ সালে ৫ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য নেয়ার পর ২০১৯ সালের ১ আগস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন। উক্ত রায়ে জিকু, রহিম ওরফে আরিফ ও আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে টাইগারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং আসামি মিলনসহ ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
নলছিটি থানার ওসি মো. আতাউর রহমান জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শনিবার রাতে মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে দুপুরেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।