পহেলা বৈশাখ রাঙাতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
আর মাত্র একদিন বাকি। দরজায় কড়া নাড়ছে পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। আর এই নববর্ষকে ঘিরেই যত পরিকল্পনা হবিগঞ্জের মৃৎশিল্পীদের। সারা বছর মাটির তৈরি পণ্যের তেমন কেনাবেচা না হলেও বছরের এই সময়টাতে বেশ ভালো কেনাবেচার প্রত্যাশা তাদের।
শিল্পীদের এখন একটাই টার্গেট নববর্ষের মেলা। যেখানে বিক্রি হবে তাদের হাতের নিপুন ছোঁয়ায় তৈরি মাটির পণ্যগুলো। এবার জেলায় সব মিলিয়ে অন্তত ২ কোটি টাকার মাটির পণ্য বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা শিল্পীদের। যদিও আধুনিক সব তৈজসপত্রের ভিড়ে দিনদিন হারাতে বসে যাওয়া এ শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদার দাবি তাদের।
জানা যায়, একটা সময় জেলার শায়েস্তাগঞ্জ চুনারুঘাট ও লাখাইসহ বিভিন্ন উপজেলায় বেশ কয়েকটি গ্রামের অন্তত হাজারো লোকজন এ পেশায় জড়িত ছিলেন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এ পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। আধুনিক সব যন্ত্রপাতি ও প্লাস্টিকের তৈরি জিসিনপত্রের কারণে দিনদিন কমছে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের কদর। তবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুরাবই গ্রামের পালপাড়া টিকিয়ে রেখেছে তাদের ঐতিহ্য। এ গ্রামের ২৫টি পরিবার এখনও মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। চৈত্রের শেষের দিকে পহেলা নববর্ষকে ঘিরে তারা এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।
.png)
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মৃৎশিল্পী নারী-পুরুষরা মিলে তৈরি করছেন মাটির সব জিসিনপত্র। কেউ মাটির জিসিনপত্র তৈরির জন্য প্রাথমিকভাবে মাটি প্রস্তুত করছেন আবার কেউ কেউ তাদের হাতের যাদু দিয়ে তৈরি করছেন হাড়ি-পাতিল, থালা, পুতুল, ঢাকনা, বাটি, মগ, কাপ-প্লেট, গরু, ব্যাংকসহ ইত্যাতি সব পণ্য। সারা বছর এসব পণ্যের কদর থাকলেও বৈশাখে এসব পণ্যের কদর বেড়ে হয় দ্বিগুণ। অনেকে আবার শখ করে নিজেরদের বাসা বাড়িতে এসব এনে সাজিয়ে রাখেন। করোনার কারণে গত কয়েক বছর তেমন বেচাকেনা না হলেও এবার জমজমাট কেনাবেচার প্রত্যাশা শিল্পীদের।
মৃৎশিল্পীরা জানান, এ পেশা তাদের বংশ পরম্পরায়। একটা সময় এ পেশা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা গেলেও এখন তা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। এছাড়াও প্লাস্টিক, সিরামিক্স ও স্টিলের ব্যবহারের কারণে কমছে মাটির জিনিসের কদর। যে কারণে আগের সেই সুদিন না থাকায় এ পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই। এমতাবস্থায় সরকারিভাবে সহায়তা চান তারা।
মৃৎশিল্পী রুমা রাণী পাল ও রিনা রানী পাল বলেন, হাড়ি-পাতিল, থালা, ঢাকনা, বাটি, মগসহ মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করেই আমাদের সংসার চলে। এখন জিসিনপত্রের যে পরিমণন দাম তা বিক্রি করে আমাদের সংসার চলে না। ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ চালাই কেমনে। সরকার যদি সহায়তা করতো তা হলে আমাদের জন্য ভালো হতো।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, মৃৎশিল্প বাঙ্গালির ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাদের টিকিয়ে রাখতে যা যা প্রয়োজন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবকিছু করা হবে।