পুরোনো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিমে এটির অবস্থান। তাজমহলের আদলে গড়া এ মসজিদ স্থানীয়দের কাছে ‘তাজমহল মসজিদ’ নামে পরিচিত। পুরো এক একর জমির ওপর মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত। মসজিদের পাশেই রয়েছে দুইটি একাডেমিক ভবন। দুই পাশে রয়েছে দুইটি পুকুর। এতে রয়েছে শান বাঁধানো ঘাট। মধ্যখানে রয়েছে সবুজ ঘাসের বেষ্টনী আর বিশাল মাঠ।
মসজিদটি বাইরে থেকে দেখতে অনেকটা আগ্রার তাজমহলের মতো। ধবধবে সাদা রঙে আবৃত এ মসজিদ একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অনেকে। দোতলাবিশিষ্ট মসজিদটির নিচতলা ও দোতলা মিলিয়ে ৫০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।
.png)

জানা যায়, ১৯৯১ সালে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মৌলভি নজির আহমদের ছেলে সফিউল্লাহ নিজস্ব জমিতে এটি স্থাপন করেন। সে সময় প্রায়ই ভারত সফরে যেতেন সফিউল্লাহ। তখন তিনি তাজমহলের সৌন্দর্যের প্রতি মুগ্ধ হন। পরে দেশেই তাজমহলের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। সেখানকার এক প্রকৌশলীর সহায়তায় আগ্রার তাজমহলের আদলে হার্ডবোর্ডে সম্পূর্ণ একটি নকশা তৈরি করেন, পরে দেশে এসে প্রকৌশলীর সহায়তায় নির্মাণকাজে হাত দেন। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান স্থানীয় ঠিকাদার তোফায়েল। দীর্ঘ সময় ব্যয় করে তাজমহলের আদলে সম্পূর্ণ মসজিদটি নির্মাণ করেন তিনি।
নির্মাণের পর সফিউল্লাহর ছেলে ফখরুদ্দিন মাহমুদের নামে মসজিদটির নামকরণ করা হয় ‘ফখরুদ্দিন মাহমুদ জামে মসজিদ’, যা স্থানীয়ভাবে ‘তাজমহল মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়।

ফখরুদ্দিন মাহমুদ ভারতে শিক্ষার্জনের জন্য গিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত হন। পরে তার স্মৃতিস্বরূপ মসজিদটির নামকরণ করা হয়। তবে শুধু মসজিদ নির্মাণ করেই থেমে যাননি সফিউল্লাহ। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করেন দ্বিতল বিশিষ্ট দুইটি একাডেমিক ভবন। যেখানে ২০০০ সাল থেকে একটি দাখিল মাদরাসার কার্যক্রম চলছে। বাবা মৌলভি নজির আহমদের নামে এটির নামকরণ করা হয় ‘মৌলভি নজির আহমদ আদর্শ দাখিল মাদরাসা’।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইসহাক মিয়া বলেন, আগ্রার তাজমহল আমরা ছবিতে দেখেছি, বাস্তবে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তাজমহলের আদলে মসজিদ তৈরি করে কিছুটা হলেও সেই সৌভাগ্য আমাদের করে দিয়েছেন সফিউল্লাহ। শুনেছি তিনি সে সময় প্রায়ই ভারত সফরে যেতেন। তখন আগ্রার তাজমহলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি দেশে তাজমহলের আদলে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পুরো মীরসরাই উপজেলাজুড়ে এটি একনামে ‘তাজমহল মসজিদ’ নামে পরিচিত। মীরসরাই ছাড়াও অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মসজিদটি একনজর দেখতে আসেন অনেকে। এমন একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করে।