ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঐতিহ্যের সাক্ষী ‘উলানিয়া জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ’ 

শামীম আহমেদ, বরিশাল 
প্রকাশিত: ১০:৪৬, ১২ এপ্রিল ২০২৩
ঐতিহ্যের সাক্ষী ‘উলানিয়া জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ’ 
উলানিয়া জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া গ্রামের মেঘনার কোল ঘেষে রয়েছে প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী একটি জমিদার বাড়ি। যেটি বর্তমানে সবার কাছে উলানিয়া জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত। জমিদার বাড়ির প্রবেশ পথে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘উলানিয়া জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ’। 

বাংলা ১২৬৮ সালের হিসেবে খ্রিস্টাব্দ ১৮৬১ সনে এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সে হিসেবে দেড়শ বছরের অধিককাল ধরে এ মসজিদে মুসল্লিদের আনাগোনা। মসজিদটিতে বর্তমানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ নিয়মিত জুমার নামাজ আদায় করেন স্থানীয় মুসল্লিরা। আর রমজান মাসে মসজিদটিতে তারাবির নামাজ আদায়সহ নানান ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন ধর্মপ্রান মুসলমানরা। তবে সংস্কারের পরও মসজিদটি ঐতিহ্য ধরে রাখায় এটি দেখা জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা উলানিয়ায় আসেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেন জানান, এই মসজিদের যতো বিশেষত্ব রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হয়েছে এখানে একটি বড় নাকারা (ঢোল সাদৃশ্য বস্তু রয়েছে। যেটি সেহরি ও ইফতারের সময়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাজানো হতো। এর মধ্য দিয়ে গ্রামবাসীকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে (বার্তা) জানানো হতো বলেই পূর্ব-পুরুষদের কাছ থেকে জেনে এসেছি।

Advertisement

লেখক আতিকুর রহমান হিমু জানান, মূলত প্রাচীন আমলে ঢোল পিটিয়ে নানান বিষয়ে জানান দেওয়া হতো। বিশেষ করে জমিদাররা তাদের প্রজাদের মাঝে বন্যাসহ নানান বিষয়ে বিশেষ বার্তা প্রেরণের মাধ্যম হিসেবে এটি ব্যবহার করা করতেন। আর যেহেতু এই নাকারাটা মসজিদেই পাওয়া গেছে, তাই ধারণা করা হচ্ছে এটি বাজিয়ে সেহরি ও ইফতারের সময়ের জানান দেওয়া হতো স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। হয়তো নামাজের সময়ও জানান দেওয়ার কাজ করা হতো।

এদিকে নির্মাণের আলাদা বৈশিষ্টের কারণে মসজিটি সবার দৃষ্টি কেড়েছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের মে মাসে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। সংস্কার শেষে মসজিদটি পর্যটকসহ সবার প্রশংসা লাভ করেছে। যদিও ১৮৬১ সালে প্রতিষ্ঠার পর মসজিদটি কয়েকবার সংস্কার করা হলেও মূল অবয়ব এখনও অক্ষুন্ন রয়েছে। ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি অনেকটা তাজমহল আকৃতির। মসজিদের সামনে শান বাঁধানো পুকুর আছে। মূল গৃহের আগে লোহার ৬ খামের ওপর প্রতিষ্ঠিত জাফরির কাজ রয়েছে।

মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে একসঙ্গে শতাধিক মানুষ নামাজ পড়তে পারে। মসজিদের ভেতরে পশ্চিম দিকে একটি মিহরাব রয়েছে। বাহিরের দেয়ালে চীনা মাটির টুকরা দিয়ে গড়া শিলালিপি রয়েছে। মসজিদটি মূলত মোগলরীতিতে তৈরি। ভেতর ও বাহিরের গায়ে জ্যামিতিক লতাপাতা ও ফলের নকশা রয়েছে।

বিমের ছাদ বিশিষ্ট মসজিদের তিনটি দরজা রয়েছে। মসজিদের তিনটি দরজার মধ্যে মাঝেরটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এটির দুই পাশের দুই দেয়ালের নকশার নিচে উৎকীর্ণ শিলালিপি ছিল। ডান দিকের দেয়ালে উৎকীর্ণ কুরআন শরীফের আয়াত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বেশির ভাগ লেখা টিকে আছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!