ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

২৫০ বছরের পুরোনো ‘উকিল বাড়ি মসজিদ’

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ১৪ এপ্রিল ২০২৩
২৫০ বছরের পুরোনো ‘উকিল বাড়ি মসজিদ’
উকিল বাড়ি মসজিদ- ছবি সংগৃহীত

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আনাচে-কানাচে রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। এসবের অধিকাংশই মুসলিম স্থাপত্যের। এমন একটি অনন্য নিদর্শন ‘উকিল বাড়ি জামে মসজিদ’। মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম প্রাচীন এ মসজিদটি ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে অবস্থিত।

জনশ্রুতি রয়েছে, তৎকালীন জমিদার মনোহর আলী ওরফে বোচা উকিল মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে হিসেবে এটির নামকরণ হয় উকিল বাড়ি জামে মসজিদ। একই উপজেলার ভুজপুর এলাকার কাজী বাড়ি জামে মসজিদ দেখে এটি নির্মাণে অনুপ্রাণিত হন জমিদার মনোহর আলী।

জানা যায়, নগরের বাকলিয়ার তারাকা মিস্ত্রি মসজিদটি নির্মাণ করেন। লোহা ও সিমেন্ট ছাড়া শুধু চুন আর ইট দিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। বর্গাকার ইটসহ বিশেষ কিছু উপাদান ব্যবহৃত হয় মসজিদটিতে। মসজিদের ওপরে রয়েছে দুইটি ছোট গম্বুজ ও ছোট-বড় ২০টি মিনার। পাশে রয়েছে মুসাফিরখানা ও নোঙরখানা। মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ, মুসাফিরখানা পরিচালনা ও বছরে তিনবার মেজবানের খরচের জন্য মসজিদটির নামে শতাধিক একর জমি ওয়াকফ করে যান জমিদার মনোহর আলী। বর্তমানে তার বংশধররা মসজিদটি পরিচালনা করছেন।

Advertisement

কাঞ্চননগরের বাসিন্দা মো. সানাউল্লাহ বলেন, দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদটি কত সালে নির্মিত হয়েছে তার সঠিক তথ্য আমাদের জানা নেই। তবে প্রায় ২৫০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল বলে পূর্বপুরুষদের কাছে শুনেছি। সে হিসেবে বলা যায়- এটির বয়স ২৫০ বছরের বেশি। দূর-দূরান্ত থেকে মসজিদটিতে নামাজ পড়তে আসেন মুসল্লিরা। বিশেষ করে শুক্রবারসহ ধর্মীয় বিশেষ দিনগুলোতে মুসল্লির সমাগম হয় বেশি।

উকিল বাড়ি জামে মসজিদের অদূরেই হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে রয়েছে মোগল আমলের তৈরি আরো একটি মসজিদ। যেটি ‘ফকিরপাড়া গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিত।

কয়েকশ’ বছর আগে মসজিদটি গায়েবি হিসেবে গড়ে ওঠে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ফলে কালের বিবর্তনে এটির নাম হয়ে ওঠে ‘ফকিরপাড়া গায়েবি মসজিদ’।

জানা যায়, এখন থেকে প্রায় সাড়ে ছয়শ’ বছর আগে ইসলাম প্রচারে এসে কিছু আলেম মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। আবার কারো কারো মতে- গায়েবি হিসেবে গড়ে উঠেছিল এ মসজিদ। মসজিদটিতে কোনো মানত কিংবা নিয়ত করলে তা পূরণ হয় বলে ধারণা অনেকের। 

২০১৪ সালে মসজিদটি ভেঙে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে এটিকে পুনর্নির্মাণ করেন স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি মো. দিদারুল আলম চৌধুরী। মালয়েশিয়ার একটি সুদৃশ্য মসজিদের আদলে এটিকে গড়া হয়।

ফটিকছড়ির বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, উকিল বাড়ি জামে মসজিদ ও ফকিরপাড়া গায়েবি মসজিদ, দুটিই ফটিকছড়ির দৃষ্টিনন্দন মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। মসজিদগুলোর স্থাপত্যশৈলী দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায় যে কারো। এমন দৃষ্টিনন্দন মসজিদ পেয়ে আমরা ফটিকছড়িবাসী গর্বিত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!