ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নতুন রূপে মোগল আমলের ‘আসগর আলী চৌধুরী মসজিদ’

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ২২:১৯, ১০ এপ্রিল ২০২৩
নতুন রূপে মোগল আমলের ‘আসগর আলী চৌধুরী মসজিদ’
আসগর আলী চৌধুরী মসজিদ- ছবি: সংগৃহীত

আসগর আলী চৌধুরী জামে মসজিদ। চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ থেকে তিন কিলোমিটার পশ্চিমে হালিশহরের বড়পোল এলাকা। সেখান থেকে আরো প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে চৌধুরীপাড়া। এ পাড়াতেই ১৭৯৫ খ্রিষ্টাব্দে মোগল আমলের স্থাপত্য নকশায় চুন-সুড়কি দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদটি নির্মাণ করেন প্রয়াত আসগর আলী চৌধুরী। 

১০ শতক জায়গার ওপর তাজমহলের আদলে এটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদটিতে রয়েছে তিনটি বড় গম্বুজ ও ২৪টি মিনার। ভেতরে-বাইরে দেয়াল ও কাঠামোজুড়ে রয়েছে নানা রকমের নকশা। সামনে ১০০ শতকের একটি পুকুর ও দক্ষিণে কবরস্থান। উত্তরে চৌধুরী পরিবারের প্রতিষ্ঠিত উত্তর হালিশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

২০১০ সালের দিকে মোগল আমলে তৈরি এ মসজিদটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলাকাবাসী। ৫০ লাখ টাকা খরচ করে এটিকে আগের রূপ দেন তারা।

Advertisement

আসগর আলী চৌধুরী মসজিদ- ছবি: সংগৃহীত

ছয় বছর আগে এলাকাবাসীর আগ্রহে পুরাতাত্ত্বিক এ নির্দশন না ভেঙে পেছনে ৭০ শতক জায়গার ওপর সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করেন চৌধুরী পরিবারের ওয়ারিশরা। নতুন মসজিদটির নকশাও নজর কাড়ে মুসল্লিদের। সংসদ ভবনের আদলে তৈরি করা এ মসজিদের তিন পাশে রয়েছে জলাধার। ওপর থেকে দেখে মনে হয়- পানির ভেতরই যেন ভাসছে মসজিদটি।

আসগর আলী চৌধুরী মসজিদ পরিচালনা কমিটির প্রধান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মোগল আমলে তৈরি এ মসজিদকে আগের আদলে ফিরিয়ে আনতে একমত হয়েছিলেন এলাকার সবাই। তাদের এ ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরাতাত্ত্বিক এ নির্দশন সংরক্ষণ করে চৌধুরী পরিবার। এলাকার কারো কাছ থেকে অর্থ না নিয়েই পুরনো আদলে মসজিদটির মূল অবকাঠামো সংস্কার করা হয়। চুন-সুড়কি ও বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল দিয়ে এ সংস্কার কাজ করে ঢাকার আরবানা আর্কিটেক্ট গ্রুপ। যেভাবে সংস্কার হয়েছে, তাতে আরো ১০০ বছর টিকে থাকবে মসজিদটি।

আসগর আলী চৌধুরী মসজিদ- ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর ইচ্ছাকে সম্মান দেখিয়েই চৌধুরী পরিবার মসজিদটিকে সংরক্ষণ করেছে। ২৫০ বছর আগের আদলেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে মসজিদের রূপ। এ জন্য এলাকার কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ নেয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে মসজিদটি একনজর দেখতে আসেন অনেকে। শুক্রবারসহ ধর্মীয় বিশেষ দিনগুলোতে এখানে মুসল্লির সংখ্যা হয় বেশি। এলাকায় এমন একটি মসজিদ নির্মাণ ও এত বছর ধরে সংরক্ষণ করায় আমরা এলাকাবাসী চৌধুরী পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের পাশাপাশি এটি সংরক্ষণে এলাকার সবার দায়িত্ব রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!