ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রাচীন স্থাপত্যে নজরকাড়া ‘ফকিরপাড়া গায়েবি মসজিদ’

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৬:৫৯, ৯ এপ্রিল ২০২৩
প্রাচীন স্থাপত্যে নজরকাড়া ‘ফকিরপাড়া গায়েবি মসজিদ’
ফকিরপাড়া গায়েবি মসজিদ- ছবি: সংগৃহীত

বারো আউলিয়ার পুণ্যভূমিখ্যাত চট্টগ্রামে পুরাতাত্ত্বিক কিছু স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে মসজিদকে ঘিরে। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে সুলতানি ও মোগল আমলের প্রাচীন সব স্থাপত্য নিদর্শন। মোগল আমলের তৈরি এমনই এক মসজিদ হচ্ছে ‘ফকিরপাড়া গায়েবি মসজিদ’।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে এটির অবস্থান। কয়েকশ’ বছর আগে মসজিদটি গায়েবি হিসেবে গড়ে ওঠে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ফলে কালের বিবর্তনে এটির নাম হয়ে ওঠে ‘ফকিরপাড়া গায়েবি মসজিদ’।

ফটিকছড়ি-বারৈয়ারঢালা সড়ক দিয়ে যেতে হারুয়ালছড়ি চৌধুরী বাড়ির পাশ ঘেঁষে দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদটি নজর কাড়বে যে কারো। মসজিদটিতে রয়েছে একটি সুদৃশ্য মিনার। রয়েছে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পথ। প্রবেশপথের দুই পাশে বাহারি ফুলের বাগান। একতলা বিশিষ্ট এ মসজিদে একসঙ্গে দেড় থেকে দুই হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের পাশেই রয়েছে কবরস্থান।

Advertisement

জানা যায়, এখন থেকে প্রায় সাড়ে ছয়শ’ বছর আগে ইসলাম প্রচারে এসে কিছু আলেম মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ফকিরপাড়া গায়েবি মসজিদ- ছবি: সংগৃহীত

আবার কারো কারো মতে, গায়েবি হিসেবে গড়ে উঠেছিল এ মসজিদ। মসজিদটিতে কোনো মানত কিংবা নিয়ত করলে তা পূরণ হয় বলে ধারণা অনেকের। দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসেন এখানে। এছাড়া শুক্রবার ও ধর্মীয় বিশেষ দিনগুলোতে মুসল্লিদের ভিড় হয় বেশি।

২০১৪ সালে মসজিদটি ভেঙে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে এটিকে পুনর্নির্মাণ করেন স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি মো. দিদারুল আলম চৌধুরী। মালয়েশিয়ার একটি সুদৃশ্য মসজিদের আদলে এটিকে গড়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল আলম বলেন, ফটিকছড়িতে দৃষ্টিনন্দন যত মসজিদ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ফকিরপাড়া গায়েবি মসজিদ। এটির সৌন্দর্য দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। পূর্বপুরুষদের কাছে শুনেছি কোনো এক কালে মসজিদটি গায়েবি হিসেবে গড়ে ওঠে। তাই এটিকে গায়েবি মসজিদ বলা হয়ে থাকে।

ফকিরপাড়া গায়েবি মসজিদ- ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরো বলেন, এটিও শুনেছি প্রায় সাড়ে ছয়শ’ বছর আগে ইসলাম প্রচারে এসে কিছু আলেম এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে তিন দফায় এটিকে পুনর্নির্মাণ করা হয়। ২০১৪ সালে স্থানীয় দিদারুল আলম চৌধুরী প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ করে মসজিদটিকে পুনর্নির্মাণ করেন। মালয়েশিয়ার অপরূপ একটি মসজিদের নকশায় তিনি এটিকে তৈরি করেন।

স্থানীয় আরেকজন মো. জুয়েল বলেন, মসজিদটিতে বসে কোনো নিয়ত করলে সেটি পূরণ হয় বলে মনে করেন অনেকে। তাই দূর-দূরান্ত থেকে নানা আশা নিয়ে অনেকে এখানে আসেন। এখানে নামাজ আদায় করেন। তবে এমন দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ পেয়ে এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!