ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঈদে পর্যটকের জন্য প্রস্তুত মৌলভীবাজার

আশরাফ আলী, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ২০:০০, ১৯ এপ্রিল ২০২৩
ঈদে পর্যটকের জন্য প্রস্তুত মৌলভীবাজার
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঈদ আসলে মৌলভীবাজারে বাড়ে পর্যটকের ভিড়। পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় মৌলভীবাজার চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত দেশজুড়ে। আর এই চায়ের রাজধানীকে দেখতে সারা বছর আসেন পর্যটক। ঈদকে কেন্দ্র করে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বাড়ে পর্যটকের সংখ্যা। তাই পর্যটকের জন্য প্রস্তুত মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন স্পটগুলো।

মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- নয়নাভিরাম শতাধিক চা বাগান, জীব্যবৈচিত্রে ভরপুর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, দেশের বৃহত্তম জলরাশি মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, দূর্গম পাহাড়ের গহিন জঙ্গলে হামহাম জলপ্রপাত, এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর, দোসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা সেন্টার, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, মনু ব্যারেজ এলাকায় রাঙাউটি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধবপুর লেইক, শ্রীমঙ্গলের স্বাধীনতার বধ্যভূমি, বাইক্কা বিল, আগরের কারখানা, রাবার বাগান, জুড়ির কমলা বাগান, সীমান্তের লাঠিটিলা আয়রন ব্রিজ, কাশ্মির টিলা, জুড়ীর কালা পাহাড়, পাথারিয়া হিল ফরেষ্টের ভিতরে থাকা ঝর্ণা, তুর্কি নকশায় নির্মিত শ্রীমঙ্গলের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ, মনিপুরি তাঁতশিল্প।

জুড়ীর সারি টিলাপর্যটন স্থানগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

Advertisement

হাকালুকি হাওর: ছোট বড় ২৩৮টি বিল নিয়ে এ হাওরের আয়তন ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর। বর্তমান সরকারের সময় এখানে বেশ কিছু সংরক্ষিত স্পট গড়ে তুলা হয়েছে। যার জন্য বেড়েছে হাকালুকির সৌন্দর্য্য। বর্ষা মৌসুমে থৈ থৈ পানি আর শীত মৌসুমে পাখির খেলা বিমোহিত রূপ মাধুর্যে কাছে টানে প্রকৃতি প্রেমীদের। এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির সীমানা মৌলভীবাজার ছাড়িয়ে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা দিয়ে এ হাওরে যেতে হয়। তবে জুড়ী উপজেলা হতে যাওয়া সহজ।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত: দেশের বৃহত্তম জলপ্রপাত মাধবকুন্ড। বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলী বাজার থেকে ৮ কিমি পূর্ব দিকে এগোলেই কানে আসবে ক্রমাগত জল গড়ানোর শব্দ। সেই সঙ্গে থাকবে সবুজ চা পাতার তাজা গন্ধ। প্রায় ২৫০ ফুট পাথারিয়া পাহাড়ের ওপর থেকে ছোট-বড় পাথরের বুক চিড়ে আছড়ে পড়া জলরাশির ঝর্ণাধারার দৃশ্যে মন নাচে আনন্দ আবেগে। তাই যেকোনো প্রকৃতি প্রেমীর জন্য এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কিছুদিন আগেও ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। যে যেভাবে পারকো রাস্তা তৈরি করে যেত। এখন সেখানে টাইলস ও রেলিং বসিয়ে সুন্দর করে গড়ে তুলা হয়েছে। যার জন্য এখন পর্যটকরা অনায়াসে ঝর্ণার দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান: দেশের ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। বিনোদনের অন্যতম এ স্পটটি দেশের বনাঞ্চলের মধ্যে নান্দনিক ও আকর্ষণীয়। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৮ কিমি দূরে অবস্থিত জীববৈচিত্রে ভরপুর কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় দেখা মেলে বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণীর। ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের একটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি হিসেবে টিকে আছে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ সালে এই বনকে ‘জাতীয় উদ্যান’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধআগর বাগান: বড়লেখার আজীমগঞ্জ ও সুজানগর এলাকায় বিশাল বিশাল আগর বাগান আর তা থেকে নানা প্রক্রিয়ায় সুগন্ধি সংগ্রহের দৃশ্য কৌতূহল জাগায়। ওখানকার উৎপাদিত আগর সুগন্ধির চাহিদা মিটাচ্ছে দেশ-বিদেশের। যা রফতানি করে বৈদেশিক মুনাফা অর্জিত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আগর বাগানের পরিধি বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

দূর্গম হামহাম: গহীন অরণ্যের দূর্গম হামহাম জলপ্রপাত। ১৫০ ফুট পাহাড়ের ওপর হতে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পানি আছড়ে পড়ছে বড় বড় পাথরের গায়ে। হামহাম জলপ্রপাত কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বন বিটের গহীন অরণ্যে। কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণে আয়তন ৭ হাজার ৯৭০ একর। এলাকার পশ্চিম দিকে চাম্পারায় চা বাগান, পূর্ব-দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত। এই বন বিটের প্রায় ৯ কিমি অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন এই হামহাম জলপ্রপাত। প্রায় ১০ কিমি পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে পৌঁছতে হয় এই ‘ঝর্ণা সুন্দরী’র আঙ্গিনায়। নতুন সন্ধান পাওয়া রোমাঞ্চকর দৃষ্টিনন্দন হামহাম জলপ্রপাত একনজর দেখার জন্য দিনদিন পর্যটকদের আগমনে বাড়ছে।

মাধবপুর লেক: মাধবপুর লেক। নয়ন জুড়ানো এই লেক জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা বাগানের পাদদেশে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পাহাড়ি ও সমতল পথ পেরিয়ে চা বাগানের ভেতরে দেখা মিলে আকর্ষণীয় এই লেকের। ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানাধীন চা বাগানের ভেতরে মাধবপুর লেক নিজের রূপ দিয়েই দেশি-বিশে পর্যটকদের নয়ন কাড়ে।

জুড়ীর কমলা বাগান: দেশব্যাপী পরিচিত সবুজ কমলার চাষ হয় জুড়ীতে। এক সময় হারিয়ে বসা কমলা বর্তমান সরকারের কৃষি কর্মকাণ্ডের কারণে সফলতা বয়ে আনে কমলা চাষে। জুড়ীর সবুজ কমলার বাগান দেখতে পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে।

লাঠিটিলা আয়রন ব্রিজ: একটা সময় ছিল যখন জুড়ীর লাঠিটিলায় গাড়ি নিয়ে যাওয়া মানে সংগ্রাম করা। সেই সংগ্রামকে বাস্তব রুপ দেয় বর্তমান সরকার। সরকারের পরিকল্পনায় লাঠিটিলা সড়কটিকে বলা হয় মৌলভীবাজার জেলার সবচেয়ে সুন্দর সড়ক। এই সড়কের আঁকাবাঁকা মোড় এবং সড়কের পাশের সবুজ প্রকৃতি যে কারও প্রাণ জুড়িয়ে যায়। সড়কটি সীমান্তের কাছাকাছি গিয়ে যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে রয়েছে ব্রিটিশ আয়রন ব্রিজ। এই ব্রিজে দাঁড়ালে দেখা যায় ভারত-বাংলাদেশের শান্ত সীমান্ত। এখানকার মূল আকর্ষণই হচ্ছে ব্রিটিশদের নির্মিত আয়রন ব্রিজ।

হাকালুকি হাওরবাইক্কা বিল: প্রকৃতি প্রেমিদের জন্য অন্যতম একটি স্থান হচ্ছে শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল। বাইক্কা বিলে এই কয়েক বছরে পর্যটকের জন্য রাস্তা সংস্কার, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণসহ বেশ কিছু স্থাপনা করা হয়েছে। যেখানে পর্যটক গিয়ে বিভিন্ন ধরনের পাখির বিচরণ দেখে মুগ্ধ হন।

ট্যুরগাইড অপারেটর এসোসিয়েশন অব মৌলভীবাজারের (টোয়াম) আহ্বায়ক খালেদ হোসাইন বলেন, আমরা যারা ট্যুরিজমের সঙ্গে আছি তারা পর্যটকদের সেবার মান উন্নত রাখার জন্য কাজ করে যাব। মৌলভীবাজারে এসে পর্যটকরা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন সে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করব।

তিনি আরো বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এর মধ্যেই রিসোর্ট বুকিং শুরু হয়ে গেছে। কিছু কিছু রিসোর্টে পর্যটক আসতেও শুরু করেছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক থাকলে আশা করি অন্য বছরের তুলনায় এ বছর পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারো আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। ঈদকে সামনে রেখে আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এর পাশাপাশি সাদা পোষাকের পুলিশ থাকবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে। পর্যটকদের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সে জন্য গত বছরের চেয়ে এ বছর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!