শুক্রবার আবহাওয়া অধিদফতরের আট নম্বর মহাবিপদ সংকেতের পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় এ কথা বলেন তিনি।
চসিক মেয়র বলেন, ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে বা যেকোনো সহায়তার জন্য কন্ট্রোলরুমে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ করতে পারবেন। নাগরিকদের বলবো- দুর্যোগের সময় ত্রাণ থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক যেকোনো প্রয়োজনে আপনারা আমাদের কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করুন। আপনাদের সহযোগিতার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী দ্রুততম সময়ে সাড়া দিতে প্রস্তুত।
.png)
নগরের দামপাড়ায় চসিক বিদ্যুৎ উপ-বিভাগ ভবনের নিচতলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম, যেখানে থাকা ০১৮৯৪-৮৮৩০০২ এবং ০২-৪১৩৬০২৭১ এ দুটি নম্বরে যেকোনো নাগরিক জরুরি সব ধরনের সেবার জন্য যোগাযোগ করতে পারবেন।
অন্যদিকে, নগর ও উপজেলাগুলোতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে এক হাজার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এসব আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩০টি স্থায়ী ও ৫০০টি অস্থায়ী। যেখানে আশ্রয় নিতে পারবেন পাঁচ লাখ এক হাজার ১১০ জন মানুষ।
শুক্রবার রাতে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে- অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুদ্ধ রয়েছে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে আট নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো আট নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে আট থেকে ১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।