গত শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের দত্তপুর গ্রামে।
সবুজ মিয়া নামে এক তরুণ বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম জোসনার বাড়িতে এসে ধরা খেয়েছেন। তাই আমরা ইউপি সদস্য মিলন মিয়ার নেতৃত্বে গ্রামবাসী মিলে তাদের দুজনের বিয়ে পড়িয়ে দিয়েছি।’ তবে বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পর তালাক হলো কীভাবে―এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সেটা আমি জানি না।’
.png)
দত্তপুর এলাকার ইউপি সদস্য মো. মিলন মিয়া জানান, শফিকুল ইসলাম এখানে অসামাজিক কাজ করতে এসেছেন। তাই ওই নারীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে ইউপি সদস্য মিলন মিয়া বলেন, আমরা এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট। বিচার আমরাই করব।
স্থানীয়রা জানান, চক্রটির সদস্যরা এ ধরনের নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোছা. তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই লজ্জাজনক। মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করা অপরাধ। শফিকুল ইসলাম আমার আত্মীয়। তারপরও তাকে ছাড় দেওয়া হয়নি।’
শফিকুল ইসলামের বড় ভাই সোহাগ জানান, তার ভাই একজন হাফেজ ও স্থানীয় একটি মসজিদে মাঝেমধ্যে ইমামতি করেন। মধুপুর বাজারে চশমা বিক্রির একটি দোকান আছে তার। এছাড়া চোখের চিকিৎসা করাতে একটা কোর্সও করেছেন। দত্তপুর গ্রামের জোসনা নামে এক নারী তার ভাইয়ের দোকানে মাঝেমধ্যে ভিক্ষা করতে আসতেন। জোসনার মায়ের চোখের সমস্যা ছিল। সেই সমস্যা দেখানোর জন্য মোবাইলে কল করে তার ভাই শফিকুলকে গত শুক্রবার বাড়িতে ডেকে নিয়েছিলেন। সেখানে গেলে ইউপি সদস্য মিলন মিয়ার নেতৃত্বে এই চক্রটি তার ভাইকে আটক করে বাড়িতে ফোন করে টাকা দাবি করে। কিন্তু টাকা দিতে রাজি না হলে নিকাহ রেজিস্ট্রার ডেকে এনে ১০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে দেয়।
তিনি আরো জানান, পরে রাত ৩টার দিকে বিষয়টি মীমাংসা করার আশ্বাস দিয়ে চক্রটি ছয় লাখ টাকা দাবি করে। মানসম্মান বাঁচাতে পৌনে ছয় লাখ টাকা দিয়ে ভাইকে মুক্ত করে আনেন তিনি।
মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. আজিজুল ইসলাম জানান, এটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তাই কিছুক্ষণ পরই বিয়ের আসরেই মেয়ে তালাকের ব্যবস্থা করা হয়।