জামাইদের আগমনে উৎসবে মাতে যে গ্রাম
শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ একসঙ্গে মেলায় আসছেন। কেউ চড়ছেন নাগরদোলায়, কেউবা দেখছেন লাঠিখেলা। কিশোরী ও গৃহবধূরা ভিড় করছেন প্রসাধনীর দোকানগুলোতে। মেলা ঘিরে পুরো গ্রাম মেতেছে চেনা উৎসবে। আর সেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলা জুড়ে।
বুধবার দুপুরে বগুড়ার কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের ভেঁপড়া গ্রামে বসা মেলায় এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা হয়ে আসছে ভেঁপড়া গ্রামে। মেলাটির প্রধান আকর্ষণই হলো লাঠিখেলা। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন আকৃতির মিষ্টি।
বাংলার জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম বুধবার এ মেলার আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই মেলা ভেঁপড়ামেলা নামে পরিচিত। তবে একদিনের এই মেলাকে স্থানীয়ভাবে জামাই মেলা বলা হয়। মেলা উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে ভেঁপড়া গ্রাম।
.png)
সেখানে দেখা গেছে, শিশু-কিশোরদের বাহারি পোশাকের সাজ। মেয়েরাও সেজেছে নানা নতুন পোশাকে। বাবা-চাচা কিংবা ভাইয়ের হাত ধরে মেলায় ঘুরছে শিশুরা। তাদের কেউ আবার মেলা থেকে ফিরছে বিভিন্ন খেলনা ও বেলুন নিয়ে হাতে। চোখে-মুখে তাদের আনন্দের ছাপ। এছাড়াও মেলার আশপাশে সামিয়ানা টাঙিয়ে আড্ডায় মেতেছে কিশোরেরা। যেন প্রাণের উৎসবে মেতেছে গ্রামটি।
লাঠিখেলা ছাড়াও মেলায় খেলনা ও নানা খাবারের দোকান রয়েছে। আজ সকাল থেকেই মেলায় শিশু-কিশোর এবং নারীদের ভিড় লেগেই আছে। মেলায় আছে চুড়ি, কানের দুল, মালা, কাজলসহ সকল সাজার জিনিস। খেলনার মধ্যে থাকে ব্যাট, বল ভিডিও গেমস ইত্যাদি।

মেলায় লোকজনের খাওয়া দাওয়ার জন্য বসানো হয়েছে অস্থায়ী হোটেল। আছে ফুচকা চটপটি, ভাজা-পোড়া ও আইসক্রিমের দোকান। এছাড়া মেলায় মাংস, কাঁচাবাজার, ছুরি, দা, বঁটিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পাওয়া যায়।
মেলা উপলক্ষে ভেঁপড়া গ্রামসহ এর আশপাশের গ্রামগুলোরও ঘরে ঘরে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। যেসব মেয়ের বিয়ে হয়েছে, তারা স্বামী-সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি আসেন। মূলত গ্রামের জামাইদের নিমন্ত্রণ করে এদিন বাড়িতে আনা হয়। জামাই আদরে মাতে গ্রামের মানুষেরা। একইসঙ্গে আত্মীয়স্বজনদেরও দাওয়াত করে আনা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই মেলা কেবল একটি মেলাই নয়, বরং তার চেয়েও বেশি কিছু। মেলা উপলক্ষে গ্রামজুড়ে থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ।
মেলায় বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনাকেটা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ সরদার। তিনি বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামের প্রতিটা বাড়িতে আনন্দ-উৎসব হয়। ভেঁপড়া গ্রাম এখন মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।
গ্রামটির স্থানীয় বাসিন্দা মোতাহার আলী সরদার। তিনি গত কয়েকবার মেলার আয়োজক কমিটিতে ছিলেন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, বছর তিনেক আগে এই মেলার শতবর্ষ উপলক্ষে আমরা বড় আয়োজন করেছিলাম। এখানে বিকেল থেকে লোকজন বাড়তেই থাকবে। এটা শুধু একটি মেলাই নয়, গ্রামবাসীর প্রাণের উৎসব। এটি স্থানীয়ভাবে জামাই মেলা নামে পরিচিত।