ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দফনের ১ মাস পর কবর থেকে গৃহবধূর লাশ উত্তোলন

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৩০, ২৮ মে ২০২৩
দফনের ১ মাস পর কবর থেকে গৃহবধূর লাশ উত্তোলন
মাদারীপুর সদর মডেল থানা- ফাইল ফটো

মাদারীপুরে দাফনের এক মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর কবর থেকে মনি ওরফে লিয়া নামে এক গৃহবধূর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধূ লিয়াকে হত্যার অভিযোগ করে তার পরিবার। এ অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার সকালে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য লিয়ার লাশ কবর থেকে তোলা হয়।

মৃত লিয়ার বাবা বাদী হয়ে মাদারীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেন মামলার বাদী। এ আবেদনের ভিত্তিতে আদালতের আদেশে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফুয়াদ হাসানের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন।

মামলা এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর পৌর এলাকার ছোবাহান কবিরাজের মেয়ে মনি ওরফে লিয়ার উপজেলার দুধ খালি ইউনিয়নের এওজ গ্রামের কালাম সরদারের ছেলে মাসুদ সরদারের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই মাসুদ এবং তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের টাকার জন্য তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে কয়েক দফা পারিবারিকভাবে মিটমাটও হয়।

Advertisement

গত ৩০ মার্চ বিকেলে পুনরায় যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দেন লিয়ার স্বামী মাসুদ এবং তার পরিবার। তবে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকার করলে মাসুদ ও তার পরিবার লিয়াকে শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। মারধরের একপর্যায়ে লিয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। গৃহবধূর মৃত্যু নিশ্চিত হলে মাসুদ এবং তার পরিবারের লোকজন মিলে পরিকল্পনা করে লিয়ার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে ঘরের সঙ্গে ঝুলিয়ে জানালা দিয়ে পালিয়ে যান বলেও অভিযোগে বলা হয়।

ঘটনাটি আশপাশের লোকজন বুঝতে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঐ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

লিয়ার বাবা ছোবাহান কবিরাজ অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের কিছুদিন পরে থেকেই যৌতুক টাকার জন্য আমার মেয়েকে মাঝে মধ্যেই মারধর করা হতো। এ নিয়ে কয়েকবার পারিবারিকভাবে মিটমাট করেছি। তবে আমি বুঝতে পারেনি যৌতুকের টাকার জন্য আমার মেয়েকে জীবন দিতে হবে। মাসুদ ও তার পরিবারের লোকজন মিলে আমার মেয়েকে অত্যাচার করে মেরে ফেলেছ। মারার পরে ঘরে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজাতে চাইছে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, গৃহবধূর লিয়ার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে তার পরিবার সন্তুষ্ট না হওয়ায় লাশ উত্তোলনের জন্য আবেদন করেন। পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় তদন্ত করার জন্য পাঠানো হয়েছে।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!