অন্তর্বাস থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটে লেখা ছিল দায়ীদের নাম
মাদারীপুর সদর থানার কুনিয়া গ্রামের মৃত দুলাল দাসের মেয়ে মিতা দাস। প্রেমের সম্পর্কের ইতি টেনে এক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় মিতা দাস ও যুগল দাসের।
বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়িসহ সবাইকে নিয়ে ভালোই ছিল মিতা দাসের নতুন জীবন। কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছুদিন না যেতেই নানা ইস্যুতে নির্যাতন শুরু করেন স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে মিতা দাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার অন্তর্বাসের ভেতর থেকে মৃত্যুর জন্য চারজনকে দায়ী করে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। যেখানে মৃত্যুর বিচার চেয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
.png)
নিহত মিতার শ্বশুরবাড়ির প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মিতার ভালো সম্পর্ক ছিল না। প্রায় ঝগড়া লেগেই থাকতো।
নিহত মিতার পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মিতা দাসের স্বামী যুগল দাস, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সবাই তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের বিষয়টি মিতা তার ভাইসহ অন্যদের জানালে তারা এসে একাধিকবার মীমাংসা করেন।
এ বিষয়ে মিতার ভাই বলেন, মিতা হয়ত বুঝতে পেরেছিল তাকে মেরে ফেলা হবে, তাই সে চিঠি লিখে গেছে। মনে হচ্ছে নির্যাতন করেই মিতাকে মেরে ফেলা হয়েছে। যারা আমার বোনকে নির্যাতন করে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে তাদের ফাঁসি দাবি করছি।
ডামুড্যা থানার ওসি শেখ শরিফুল আলম জানান, এ ঘটনায় স্বামী যুগল দাস ও তার শ্বশুর নারায়ণ দাসকে আটক করা হয়েছে। মিতা দাসের অর্ন্তবাসের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া চিঠিতে তার মৃত্যুর জন্য যুগল দাস, নারায়ণ দাস, ননদ রিনা দাস ও শাশুড়ি গীতাকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া চিঠিতে মৃত্যুর বিচার চেয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুমন কুমার পোদ্দার জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।