পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কিশোর গ্যাং ‘এফসিবি’ হায়দার ক্লিনিকের পাশে খালি জায়গায় মারামারির একটি দৃশ্য ভাইরাল হয়। ভিডিও ফুটেজে ফেনী মডেল হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আমিরুল হুদা মুবিনকে (১৪) বেধড়ক পিটিয়ে আহত ও পা ধরে ক্ষমা চাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি পুলিশ প্রশাসনসহ সবার দৃষ্টিগোচর হয়। রাতে নির্যাতনের শিকার কিশোরের মা পারভিন আক্তার বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন কিশোরকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- শুভ, ইফাত ও প্রিয়। তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছর। নির্যাতিত কিশোর আমিরুল হুদা মুবিন ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়ন উত্তর মন্দিয়া গ্রামের হাজী সুলতান আহাম্মদ মেম্বার বাড়ির সামসুল হুদার ছেলে। বর্তমানে ফেনীর পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার এলাকার বৌ বাজারে ভাড়া বাসায় থাকে।
.png)
মামলার আসামিরা হলো- শহরের ডাক্তার পাড়ার ওয়াসিম (১৬), আব্দুর রহমান (১৪), রাসেল (১৫), সিয়াম (১৫), আছিম (১৫), ইসফার (১৫), জয় (১৫), প্রিয়ম (১৫), ইফাত (১৫), পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার আল কেমী হাসপাতালের পিছনের এলাকার নোমান (১৪), শুভ (১৫)। তারা শহরের ফালাহিয়া কামিল মাদরাসা, শাহীন একাডেমি স্কুল, হলি ক্রিসেন্ট স্কুল, সেন্ট্রাল হাই স্কুল ও ফেনী মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার্থী।
ফেনী মডেল থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন জানান, এরমধ্যে পুলিশ এজহারনামীয় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। বাকিদের গ্রেফতারের অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশ জিরো টলারেন্সে রয়েছে। এদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। যেসব ঘটনায় মামলা হয় সে মামলায় এজহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতাদের আন্তরিক হতে হবে।