গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার পুরাখালী এলাকার ছাত্তার আলী গাজীর ছেলে এসার আলী, নড়াইল জেলার কালনা থানার ছিলমপুর এলাকার মৃত আ. রহমানের ছেলে মাহমুদ ওরফে মামুন, যশোর জেলার শংকরপুর মেডিকেল কলেজ এলাকার শহর আলীর ছেলে শুকুর আলী, যশোর শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে জুয়েল, যশোর শংকরপুর জমাদ্দার পাড়া এলাকার নুর ইসলামের ছেলে হৃদয়, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নয়কাটি এলাকার নজরুল গাজীর ছেলে আকবর গাজী ও ইব্রাহীম গাজী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন বলেন, গত ৮ জুলাই যশোর রূপদিয়া কচুয়া এলাকার মৃত শেখ রশিদের ছেলে বুলবুল হোসেনকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফোন করে বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে রাজারহাট থেকে যাত্রা শুরু করে দুর্বৃত্তরা। পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাত ১২টার দিকে যশোর বেনাপোল সড়কের নতুনহাট কলেজের পাশে একটি পাটক্ষেতের ভেতরে নিয়ে প্রথমে তাকে কোল্ড ড্রিংকসের মাধ্যমে চেতনানাশক খাবার খাইয়ে অজ্ঞান করে। পরে পাটক্ষেতের ভেতরে নিয়ে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে তার ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন ওই রাত থেকেই তার ফোন বন্ধ পায়।
.png)
এরপর আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হাদিস পায়নি। সোমবার রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার রাতে ওই পাটক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন মঙ্গলবার নিহতের ভাই ফারাদ কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় যশোরের পুলিশ সুপার মামলার তদন্তভার দেন যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।
যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি রুপণ কুমার সরকার বলেন, মামলার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আমরা অফিসারদের কাজে লাগিয়ে দিই। তারা প্রযুক্তির সহযোগিতায় প্রথমে আসামিদের শনাক্ত করেন। এরপর যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের কাছ থেকে চেতনানাশক ওষুধ, কোল্ড ড্রিংকস ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত গামছা ও চুরি করা ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে হস্তান্তর করা হয়।