শ্রেণিকক্ষে ঢুকে স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে রক্তাক্ত
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে দুই শিক্ষার্থীর ঝগড়ার জেরে এক ছাত্রের অভিভাবক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে অন্য ছাত্র মো. মোয়াজকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোয়াজ উপজেলার চরপুমদী এপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। ঘটনাস্থলে ওই ছাত্রের গলা দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে তাকে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত স্কুলছাত্রের বাবা-মা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে সুবিচার প্রার্থনার পাশাপাশি হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেছেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চরপুমদী এপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত দুই শিক্ষার্থী খেলা করার সময় হঠাৎ ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। বিষয়টি স্কুলের শিক্ষক নাজমা আক্তারসহ অন্যরা তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ওই শিক্ষার্থীর পাষণ্ড বাবা উপজেলার চরপুমদী গ্রামের মো. নুরুল্লাহ শ্রেণীকক্ষে ঢুকে স্কুলছাত্র মোয়াজকে টেনে হেঁচড়ে বের করে মধ্যযুগীয় কায়দায় বারান্দার মেঝেতে ফেলে কিল, ঘুষি, লাতিসহ গলায় পা দিয়ে চাপা দেয়। এতে মোয়াজের গলা দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা অনিন্দ্য মন্ডলকে জানিয়ে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আইনানুগ বিচারের দাবি জানান তার বাবা উপজেলার রামপুর গ্রামের মো. বাবুল মিয়া।
.png)
ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ্ আলম সেলিম জানান, ঘটনার সময় তিনি উপজেলা অফিসে গুরুত্বপূর্ণ কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে হাসপাতালে গিয়ে ছাত্রটিকে দেখেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খুবই নিন্দনীয়। শ্রেণিকক্ষে ঢুকে এভাবে একজন অভিভাবক স্কুলছাত্রকে প্রহার করা খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করেন।
হোসেনপুর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান টিটু জানান, স্কুল ছাত্র মোয়াজের বাবা অভিযুক্ত মো. নুরুল্লাহকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাই বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া হবে।