কবুতরের মালিকসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, জমিতে রাখা বিষ মেশানো গম খেয়ে এসব কবুতর মারা গেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মানিকনগর পূর্বপাড়া গ্রামের ইছহাক বিশ্বাসের জমি পত্তন নিয়ে জয়নগর গ্রামের কৃষক সাহাবুল বিশ্বাস মুলার বীজ বপন করেন। পাখি থেকে ফসল রক্ষায় মঙ্গলবার সকালে তিনি ওই জমিতে বিষ মেশানো গম ছিটিয়ে দেন। দুপুরের দিকে স্থানীয়রা দেখতে পান সেখানে ঘুঘু, কবুতরসহ অর্ধশত পাখি মরে পড়ে আছে। তাদের ধারণা, এছাড়া অসংখ্য পাখি জমিতে বসে গম খেয়ে উড়ে গেছে। সেগুলো দূরে কোথাও গিয়ে মরে পড়ে থাকতে পারে।
.png)
মাঠপাড়া এলাকার আমিরুল ইসলাম বলেন, ওই জমিতে প্রায় ৩০টি কবুতর মরে পড়ে ছিল। বেশ কয়েকটি কুকুর নিয়ে গেছে। আশপাশের লোকজনও কিছু সরিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় আবুল কালামের ১৫টি, আম্বিয়া বেগমের ২০টি ও মতিয়ার রহমানের ১০টি কবুতর মারা গেছে। এছাড়া আশপাশের কয়েকজনের একটি-দুটি করে কবুতর মারা গেছে।
আবুল কালাম বলেন, আমার ১৫টি কবুতর মারা গেছে। এ ব্যাপারে সাহাবুল বিশ্বাসকে জানিয়েছি।
আম্বিয়া বেগম বলেন, কবুতর ও পাখির মৃত্যুর জন্য জমির চাষি সাহাবুল দায়ী। আমি ক্ষতিপূরণসহ তার শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে সাহাবুল বিশ্বাস বলেন, জমিতে আগেও মুলার বীজ বপন করেছিলাম। কিন্তু পাখির অত্যাচারে আবাদ হয়নি। এ কারণে এবার বপনের পরপরই বিষ দিয়েছিলাম। যেন পাখি মুলার কোনো ক্ষতি করতে না পারে। আমি বুঝতে পারিনি এভাবে কবুতর ও পাখি মারা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত দুই-একজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করব।
সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা বলেন, ফসলি জমিতে বিষ প্রয়োগ করতে হলে আশপাশের লোকজনকে জানাতে হবে। জমিতে লাল পতাকা টাঙাতে হবে। শুনেছি সাহাবুল এসব নিয়ম মানেননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, মুলা বপনের সময় বিষ প্রয়োগের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। সাহাবুল বিশ্বাস যদি পাখি মারার জন্য বিষ দিয়ে থাকেন, তাহলে অন্যায় করেছেন। অভিযোগ পেলে কৃষি অফিস থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।