স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৩৫০ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে আরো বেশি জমিতে।
এ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা ব্রহ্মপুত্র ও নরসুন্দা নদের উপকূল বেষ্টিত হওয়ায় এখানকার কৃষকরা যুগযুগ ধরে পাট চাষ করে আসছেন। পাট চাষে অনেকেই সফলতার মুখও দেখছেন৷ এ বছর নদ-নদী, খাল বিল ও ডোবাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে পারায় তারা চরম বিপাকে ছিলেন। তবে তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে এবার আর পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
.png)
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এবার ফলন ভালো। তবে চলতি শ্রাবণ মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পাট গাছ পচানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না জলাধারগুলোতে। ফলে এ বছর আবহাওয়ায় পাটের উৎপাদন ভালো হয়েছে।
তারা আরো জানান, চলতি বছর প্রতি বিঘা জমিতে চাষ থেকে শুরু করে পাট উৎপাদন পর্যন্ত ২০-২২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে পাটের যে দাম চলছে, তা অব্যাহত থাকলে প্রতি বিঘা জমির পাট বিক্রি করে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় হবে।
উপজেলার চরকাটিহারী গ্রামের পাটচাষি আবুল কালাম বলেন, চলতি বছর আমার এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ রয়েছে। পাটের ফলন ১৪-১৬ মণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে দামও ভালো।
সাহেবের চর গ্রামের কৃষক শাকিল, লাল মিয়ার সঙ্গে কথা হলে- তারা জানান, পুকুরে কিংবা গর্তে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি দিয়ে পাট জাগ দিতে অনেক খরচ। তবে শেষ পর্যন্ত যদি পাট জাগ দেওয়ার মতো বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলে মাঠ থেকে দূরে ব্রহ্মপুত্র নদে পাট নিয়ে সেখানে জাগ দিতে হবে। সেক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একেএম শাহ জাহান কবির বলেন, উপজেলায় দেশি, তোষা, মেস্তা এবং কেনাফ পাট চাষ হয়েছে। এখনো সব জায়গায় কর্তন হয়নি, যেদিকে পানি পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে সেদিকে পাট কাটা হচ্ছে। তবে দু-তিনদিন ধরে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে আশা করি- কৃষকদের সমস্যা হবে না।