জন্মদিনে আইনজীবীর বাসায় ঝুলছিল তরুণীর লাশ
কুষ্টিয়ায় এক আইনজীবীর বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফেরদৌস ওরফে তুলি নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে কুষ্টিয়া শহরে মজমপুর এলাকার মফিজ উদ্দীন লেনের পাঁচতলা একটি বাড়ির তিনতলার একটি কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
পাঁচতলা ঐ বাড়িটি এলাকার গোলাম নবী এক ব্যক্তির। চলতি মাসের ১০ তারিখ মাহামুদুল হাসান নামে এক আইনজীবী ঐ ফ্লাটটি ভাড়া নেন। তবে এ ঘটনার পর থেকে মাহামুদুল এবং তার নববিবাহিত স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।
.png)
মৃত জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে তুলি কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় ওহিদুল মোল্লার মেয়ে। তুলি কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরের (৯৯৯) ফোনকল পেয়ে মফিজ উদ্দীন লেনের গোলাম নবীর বাড়িতে যান। সেখানে তিনতলার একটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটে মাহমুদুল হাসান ওরফে সুমনের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় জান্নাতুলের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তুলির মা শরিফা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তুলি আত্মহত্যা করার মেয়ে নয়। সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
তার দাবি মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ১০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় তুলি। এই দিন তার জন্মদিন বলে বান্ধবীদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যায় বড় মেয়ের জামাইকে মাহমুদুল হাসান ফোন করে জানান- তুলি আত্মহত্যা করছে।
এ বিষয়ে ভবনের মালিক গোলাম নবী বলেন, চলতি মাসের ১০ তারিখ ঐ আইনজীবী বাসা ভাড়া নেন। গত শুক্রবার তিনি বিয়ে করেছেন। স্ত্রী নিয়ে বাসায় থাকেন। ঘটনার সময় বাসায় ঐ আইনজীবী ও তার স্ত্রী ছিলেন।
গোলাম নবীর স্ত্রী মিতা খাতুন জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি অপরিচিত এক মেয়েকে ছাদে হাঁটতে দেখেন। পরিচয় জানতে চাইলে ঐ আইনজীবীর বাসায় এসেছেন বলে জানান মেয়েটি। এরপর কী হয়েছে তা তিনি বলতে পারেন না। পরে সন্ধ্যার পর পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকে মাহমুদুল হাসান পলাতক রয়েছেন। তার স্ত্রীকেও পাওয়া যায়নি। মাহমুদুল হাসানের দুইটি মোবাইল নম্বরে ফোন দেওয়া হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, মাহমুদুল হাসান নামে এক আইনজীবীর ভাড়া বাসার একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ঐ তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে সেখানে আইনজীবীকে পাওয়া যায়নি। এটা আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু, সেটা তদন্ত করা হচ্ছে।