পৌরশহরের বিভিন্ন জায়গায় পায়ে হেঁটে এসব রঙ-বেরঙের বেলুন প্রতি পিচ বিক্রি করছেন ৫০ টাকায়। দৈনিক তিনি ৬০ থেকে ৭০ পিস বেলুন বিক্রি করতে পারেন, এতে তার ৫শ’ টাকার উপর আয় হচ্ছে। আর এতেই চলছে তার সংসার।
মোজাম্মেল বলেন, নানা কারণে পরিশ্রমের কাজ করতে পারছি না। তাই এসব বেলুন বিক্রি করছি। হাটে বাজারে স্কুলে এসবের ভালো চাহিদা রয়েছে।
.png)
শুধু মোজাম্মেল নয় তৌহিদ, মামুন, সিরাজসহ বেশ কয়েকজন এসব গ্যাস বেলুন বিক্রি করে জীবিকা অর্জন করছেন।
সরেজমিনে পৌরশহরের সড়ক বাজার, লাল বাজার, খড়মপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে দেখা যায়, রঙ-বেরঙের নানা জাতের গ্যাস এক মাথায় সুতা দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। বাতাসে উড়ছে বেলুন। এসব বেলুন দেখে আকৃষ্ট হচ্ছে শিশুরা। অভিভাবকরাও শিশুদের খুশি করতে তাদের কাছ থেকে এগুলো কিনছেন। স্থানীয় বাজারে গ্যাসভর্তি এসব উড়ন্ত বেলুনের চাহিদা ভালো থাকায় একটি বেলুন ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

গৃহিণী রোমানা আক্তার বলেন, তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ করতে ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে আখাউড়ায় আসেন। পোস্ট অফিসের সামনে বেলুন দেখে কেনার জন্য ছেলে বায়না ধরে। একপর্যায়ে ৫০ টাকা দিয়ে উড়োজাহাজ বেলুন তার জন্য কেনা হয়। এই বেলুন পেয়ে ছেলে খুবই খুশি।
মো. রতন মিয়া বলেন, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনদিনের ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছেন। বিকেলে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে সড়ক বাজার থেকে ছেলে জন্য গ্যাস বেলুন কেনা হয়।
তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্র মো. আশরাফুল ইসলাম জানায়, বেলুন তার খুবই পছন্দের। বাবার সঙ্গে ঘুরতে এসে একটি মাছ আকৃতির গ্যাসবেলুন কেনা হয়। এতে যেন তার আনন্দের আর শেষ নেই।

পৌরশহরের খড়মপুর এলাকায় কথা হয় বেলুন বিক্রেতা মো. মামুন মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, এক সময় তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। পাঁচ বছর ধরে তিনি হাট বাজার, স্কুলের সামনে গ্যাস বেলুন বিক্রি করছেন। প্রতিদিন ৬০ থেকে ৬৫ পিস বেলুন বিক্রি হয়ে থাকে। এতে তার দৈনিক ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকার উপর আয় হয়। বেলুন বিক্রির আয় দিয়েই চলছে তার সংসার।
আরেক বিক্রেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, তার বাড়ি কুমিল্লায়। গত দুই বছর ধরে আখাউড়ায় বসবাস করছেন। এখানে তিনি হাট বাজারে গ্যাস বেলুন বিক্রি করছেন। ছোট শিশুদের কাছে এসব রঙিন বেলুনের ভালো চাহিদা রয়েছে। এক একটি বেলুন ৫০ টাকা করে বিক্রি করছেন। এসব বেলুন তিনি কুমিল্লা থেকে কিনে এনে বিক্রি করছেন।
তিনি আরো জানান, সারাবছর এসব বেলুন বিক্রি হলেও ঈদ, পূজা, মেলাসহ বিশেষ দিনে ভালো বিক্রি হয়।