এক সময় আলতাবুর রহমান সংসার চালাতে পরিশ্রমের কাজ করেছেন। এতে ভালোই চলছিল তার জীবন জীবিকা। বয়স বড়তে থাকায় পরিশ্রমের কাজ আর করতে পারছেন না। এখন সংসার চলাতে ওজন মাপার কাজ করেন।
এছাড়া শারীরিকভাবেও আলতাবুর রহমান সুস্থ নন। জীবিকার প্রয়োজনে ওজন মাপার মেশিনে আয়ের পথ বেছে নেন। প্রায় চার বছর ধরে খড়মপুর হযরত সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ ওরফে কেল্লা শহিদ রহ: মাজার এলাকায় সকাল-বিকেল মেশিনের সাহায্যে আগত লোকজনের ওজন মাপার কাজ করছেন।
.png)
আলতাবুর রহমানের বাড়ি নেত্রকোণায়। বর্তমানে তিনি আখাউড়া পৌরশহরের খড়মপুর এলাকায় বসবাস করছেন। তার দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তাই ভারী কাজ করতে পারি না। এদিকে বয়স ষাটের বেশি হয়েছে। সামান্য কাজ করলেই হাঁপিয়ে যাই। প্রায় পাঁচ বছর আগে আখাউড়ায় খড়মপুর হযরত সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ কেল্লা শাহ (রহ:) মাজার এলাকায় চলে আসি। এরপর কিছু একটা করার পরিকল্পনা করতে থাকি। ঠিক সে সময় এক যুবক আমার কাছে আসেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে ঐ যুবকের কথা শুনে একটি ওজন মাপার মেশিন কিনি। এরপর থেকে আর কষ্ট করতে হয়নি। সকাল থেকে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মাজার সংলগ্ন রাস্তায় বসে মানুষের ওজন মাপার কাজ করি।

আলতাবুর রহমান বলেন, ওজন মেপে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করি। ওজন মেপে কোনোদিন ২শ’ আবার কোনোদিন এর থেকে বেশি টাকা আয় হয়। এই কাজ করে প্রতি মাসে আট থেকে নয় হাজার টাকা আয় হয়। আসলে কোনো কাজকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
পথচারী তাজুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েকজন মিলে নবীনগর থেকে এখানে মাজার জিয়ারতের জন্য এসেছি। হঠাৎ নজর পড়ে রাস্তার পাশে এক লোক ওজন মাপছেন। তাই এই কাজটা এখান থেকে করা হয়। আমি প্রায় সময় ওজন ঠিক আছে কিনা দেখি। এজন্য তাকে পাঁচ টাকা দিতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, অনেক দিন ধরেই আলতাবুর রহমানকে এখানে ওজন মাপার কাজ করতে দেখছি। অনেক সময় তার কাছ থেকে ওজন মাপা হয়।