বাসযাত্রীকে ‘হালুয়া’ খাওয়ান তারা, এরপর…
যাত্রীবাহী বাসে চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট থেকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী যাচ্ছিলেন বিশ্বজিৎ দাশ। বাসে যাত্রীবেশে ওঠা তিনজনের একজন বসেন বিশ্বজিৎ দাশের পাশে। বাকি দু’জন বসেন সামনে ও পেছনের আসনে। নিজেকে ভেষজ ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে বিশ্বজিৎ দাশের সঙ্গে ভাব জমান পাশে বসা ব্যক্তি। দেন ওষুধের নামে হালুয়া খাওয়ার প্রস্তাব। এরইমধ্যে হালুয়া খেয়ে নেন সামনে ও পেছনে বসা দু’জন।
তাদের কিছু না হওয়ায় বিশ্বজিৎও হালুয়া খান। এরপরই অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। পরে তার পকেটে থাকা ২২ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান যাত্রীবেশে ওঠা সেই অজ্ঞান পার্টির তিন সদস্য।
সোমবার রাতে তাদের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপরই বেরিয়ে আসে এমনই তথ্য। এর আগে, গত ৩১ আগস্ট ঘটনাটি ঘটে। পরে বিশ্বজিৎ দাশ মামলা করলে সেটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
.png)
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আবদুস সাত্তার ও মো. ইসমাইল। তাদের কাছ থেকে একই কায়দায় ছিনতাই করা ১৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, গ্রেফতারকৃতরা শুধু এ ঘটনায় নয়, সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে গত ১ জানুয়ারি মাছ ব্যবসায়ী আবু সৈয়দ খুনের মামলায়ও জড়িত বলে স্বীকার করেছেন। বাসে করে ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে মারা যান আবু সৈয়দ। ঐ ঘটনার পর পিবিআই কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও দলে নতুন নতুন সদস্য যোগ করেন আবদুস সাত্তার। ৭০টির বেশি ঘটনা ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন তারা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো উপ-পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বলেন, অজ্ঞান করে ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে মঙ্গলবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতারকৃত আবদুস সাত্তার। পরে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত।