ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টাইলস মিস্ত্রির সঙ্গে পরকীয়া, ঘর ছাড়তে স্বামীকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হত্যা

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪৭, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
টাইলস মিস্ত্রির সঙ্গে পরকীয়া, ঘর ছাড়তে স্বামীকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হত্যা
গ্রেফতার পরকীয়া প্রেমিক মো. ইসমাইল

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় টাইলস মিস্ত্রির সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিকসহ স্বামীকে হত্যা করেছেন স্ত্রী। এ ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিকসহ স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।    

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নিহতের স্ত্রী সুরমা আক্তার ওরফে বিবি আছিয়া (৩৮) ও তার পরকীয়া প্রেমিক উপজেলার লতিফপুর গ্রামের আফজাল সর্দার বাড়ির সামছুল হকের ছেলে আবুধাবি প্রবাসী মো. ইসমাইল (৩৫)।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্যার আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

Advertisement

এর আগে, গত বুধবার  দুপুরে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। একই দিন ভোর রাতে পুলিশ উপজেলার রফিকপুর গ্রামের চকোইয়াদের বাড়ি থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভিকটিমের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।     

নিহত আব্দুল কুদ্দুস (৫১) উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রফিকপুর গ্রামের চকোইয়াদের বাড়ির মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে।  

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুদ্দুসের বসতঘরে টাইলস করার সময় তার স্ত্রী সুরমা আক্তার টাইলস মিস্ত্রি ইসমাইলের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরে ইসমাইল বিদেশ চলে যান। বিদেশ চলে যাওয়ার পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। গত ৬ সেপ্টেম্বর পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে ইসমাইল গোপনে দেশে আসেন। এরপর তিনি পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদুপর গ্রামে তার এক দূর-সম্পর্কের খালার বাসায় আত্মগোপনে থাকেন। সেখানে থেকে তিনি পরকীয়া প্রেমিকা সুরমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

মঙ্গলবার রাতে কুদ্দুস ঘরের বাইরে থাকাকালীন ইসমাইল ঘরে ঢুকে লুকিয়ে থাকেন। এরপর রাত ১১টার দিকে সুরমা ইসমাইলকে ডেকে ছাদে নিয়ে যান। নিচে নামার সময় ইসমাইল ছাদে থাকা বৈদ্যুতিক সকেটে লাইন দিয়ে তার নিয়ে নিচে নামেন। এরপর কুদ্দুসের শয়ন কক্ষে ঢুকে তার স্ত্রী সুরমা স্বামীর পায়ে বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে রাখেন। পরে বৈদ্যুতিক কানেকশন দিয়ে স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক এক ঘণ্টা পর সুরমা চিৎকার শুরু করে বলেন, তাকে আটক করে ডাকাত দল তার স্বামীকে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার ভোর রাতের দিকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একইসঙ্গে ভিকটিমের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক স্ত্রী জানান, পরকীয়া প্রেমিকসহ তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। পরে তার ভাষ্যমতে পরকীয়া প্রেমিককে গ্রেফতার করে পুলিশ।   

বেগমগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ঘরের ভেতরের ঘটনায় শুরু থেকে একটা অসঙ্গতি ছিল। পুলিশ তদন্তে নেমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে কুদ্দুস হত্যা মামলায় দায় স্বীকার করে নিহতের স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করেছে।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!