অপহরণের পর রিহানকে কুপিয়ে ফেলা হয় নদীতে
কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র শিশু রিহান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার সকালে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কুমিল্লা ক্যাম্পে এ তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার একেএম মুনিরুল আলম। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করে র্যাব-১১ এর একটি দল।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার সুজানগর গ্রামের সুজন মিয়ার ছেলে ইমরান, জগন্নাথপুর গ্রামের খালেক মিয়ার ছেলে মোস্তফা এবং রুবেল।
.png)
র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার একেএম মুনিরুল আলম জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় স্কুলে যাওয়ার পথে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানাধীন জগন্নাথপুর এলাকা থেকে ১১ বছর বয়সী শিশু রিহান নিখোঁজ হয়। ঐ দিন রাতে নরসিংদীর রায়পুরা থানাধীন মেঘনা নদীতে মুমূর্ষু অবস্থায় শিশু রিহানকে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয়রা রিহানকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিহানের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. শাহজাহান বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে নরসিংদীর রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনার পরপরই র্যাব-১১, সিপিসি-২ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি ইমরান, মোস্তফা এবং রুবেলকে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানাধীন জগন্নাথপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
একেএম মুনিরুল আলম আরো জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও এজাহার বিশ্লেষণ করে জানা যায়- পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রিহানকে বেড়াতে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১নং আসামি ইমরান অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় অপহরণ করেন। এরপর হত্যা ও লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিহানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। পরে নরসিংদীর ভৈরব ব্রিজের উপর হতে মেঘনা নদী ফেলে দেন।
তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের নরসিংদীর রায়পুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।