ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বাবা-মা কর্মস্থলে, বিছানায় হাত-পা বাঁধা শিশুর বিবস্ত্র মরদেহ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:০৬, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
বাবা-মা কর্মস্থলে, বিছানায় হাত-পা বাঁধা শিশুর বিবস্ত্র মরদেহ
শিশু মারিয়ার মায়ের আহাজারি

রোববার সকাল। কর্মস্থলে বাবা-মা। বাসায় একাই ছিল শিশু তানহা আক্তার মারিয়া। কিছুক্ষণ পর বাসার দরজা বন্ধ থাকায় এক প্রতিবেশী নারী ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে ওই ঘর থেকে এলাকার এক যুবককে পালিয়ে যেতে দেখেন তিনি। এরপর তিনি ঘরে ঢুকে দেখেন বিছানায় পড়ে আছে শিশু মারিয়ার হাত-পা বাঁধা ও বিবস্ত্র মরদেহ। পরে বিষয়টি অন্য প্রতিবেশীদের জানান তিনি। 

ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার চান্দার বাপের বাড়ি এলাকায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলাম মুন্নাকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চান্দগাঁও থানার ওসি খাইরুল ইসলাম। নিহত শিশু লক্ষ্মীপুরের রামগতি এলাকার মো. বাকেরের সাত বছরের মেয়ে তানহা আক্তার মারিয়া। আটককৃত রাকিবুল ইসলাম কক্সবাজারের কক্সশাহী টিকাপল্লীর প্রয়াত ইউসুফের ছেলে।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, মারিয়ার বাবা পেশায় রিকশাচালক। আর মা শহরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। কাজের কারণে বাবা-মা দুজনই সারাদিন বাইরে থাকায় বাসায় শিশুটি একাই থাকত। রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাবা-মা কর্মস্থলে যাওয়ার পর বাসার দরজা বন্ধ থাকায় এক প্রতিবেশী নারী ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। এ সময় টের পেয়ে ওই ঘর থেকে এলাকার এক যুবককে পালিয়ে যেতে দেন তিনি। পরে বিছানায় তানহাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীদের জানান তিনি।

নিহতের মা নাজিয়া আক্তার আহাজারি করে বলেন, ‘বুকের মানিকরে এত কষ্ট দিল কেন? সে মরতে পারে না। আমার বুকে কাকে নিয়ে ঘুমাব।’

ওসি খাইরুল ইসলাম জানান, বিছানায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় পড়েছিল শিশুটির মরদেহ। তার গলায় কালচে দাগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। আটককৃত মুন্না এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি আরো বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!