ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঝিনাইদহে ড্রাগন ফলে অবিশ্বাস্য এক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

রামিম খান, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১৮:৩৭, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
ঝিনাইদহে ড্রাগন ফলে অবিশ্বাস্য এক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
ড্রাগন ফলের আবাদ- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ড্রাগন চাষে অবিশ্বাস্য এক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে ঝিনাইদহে। দু’বছরের ব্যবধানে চাষ বেড়েছে আটগুণ। জেলার ৮৪২ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। যেখান থেকে উৎপাদন হয়েছে ৫৩৮ কোটি টাকার ফল। অথচ ২ বছর আগেও মাত্র ১৪১ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হতো। দেশজুড়ে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ রসালো এই ফলের ব্যাপক চাহিদা ও ভালো লাভ হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের হাট, মাঠ-ঘাটজুড়ে শুধুই ড্রাগন ফলের চাষ ও কেনাবেচা।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর গ্রামে ড্রাগন ফলের রয়েছে পাইকারি বাজার। প্রতিদিন এখান থেকে দেড় থেকে ২ কোটি টাকার উপরে ড্রাগন ফল কেনাবেচা হয়। মাসে কেনাবেচা ৫০-৬০ কোটি টাকার ড্রাগন ফল। সপ্তাহের সাতদিনই বসে ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টিকারী এই বিস্ময়কর বাজার।

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশের পাইকার ব্যবসায়ীদের ভিড়ে দিনভর মুখোর থাকে মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুরের বাজারের আড়তগুলো। ঘরে বসেই দালাল আর  মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য মুক্ত এমন বাজার আর ন্যায্যমূল্য পেয়ে দারুণ খুশি কৃষকরা।

Advertisement

ড্রাগন ফল কেনাবেচাগৌরীনাথপুর, ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুরের আজমপুর ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্তপল্লী। এখানকার কৃষকরা আম, পেয়ারা, সবজি, ধান এসব আবাদ করে আসলেও ২০১৫ সালের দিকে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। চাহিদা আর ভালো দাম পাওয়ায় গ্রামের মাঠজুড়ে চাষ হতে থাকে। এই চাষ দ্রুত ছড়িয়ে এখন প্রতিটি বাড়ির উঠানে পৌঁছে গেছে।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক খোরশেদ আলম বলেন, এখানকার প্রতিটি পরিবার ড্রাগন চাষের সঙ্গে জড়িত। গৌরীনাথপুরের দেখাদেখি নওদা গাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতেও ড্রাগন চাষ হচ্ছে।

আনিচুর রহমান নামে আরেকজন বলেন, আমার ড্রাগনের আবাদ রয়েছে। পাশাপাশি একটি আড়তও রয়েছে। এ ফল চাষে খুবই লাভজনক। তাছাড়া জৈব সার দেওয়াসহ খরচ কম। গ্রামসহ আশপাশের অনেক যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে এ ফল চাষের মাধ্যমে।

সেখানকার একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকার ব্যবসায়ীদের প্রতিটি আড়তে ১০-১৫ জনের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করছেন। এভাবে বাজারের শ্রমিক-কর্মচারীর পাশাপাশি এলাকার অনেক যুবকদের কর্মসংস্থানের জায়গা তৈরি হয়েছে ড্রাগনের মার্কেট আর এর চাষকে কেন্দ্র করে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী পারভেজ মিয়া জানান, প্রতিদিন ৫০-৮০ ক্যারেট ড্রাগন ফল কেনা হয়। যা ঢাকায় পাঠিয়ে থাকেন। প্রতি ক্যারেটে ২০ কেজি ফল রাখা যায় বলে জানান তিনি।

ড্রাগন আবাদে কাজ করছেন শ্রমিকরাজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, ঝিনাইদহ জেলায় ৮৪২ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। আর এ অঞ্চলে প্রতি হেক্টর জমি থেকে গড়ে ৩২ টন ড্রাগন ফল উৎপাদন হচ্ছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে জেলায় ২৬ হাজার ৯৪৪ টন ড্রাগন ফল উৎপাদন হয়েছে। টাকার হিসেবে ২০০ টাকা কেজি দরে এক টন ড্রাগন ফলের দাম ২ লাখ টাকা। আর উৎপাদিত ২৬ হাজার ৯৪৪ টন ড্রাগন ফলের বাজারমূল্য ৫৩৮ কোটি টাকার উপরে।

আরো জানা গেছে, ঝিনাইদহে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ড্রাগন ফলের উৎপাদন ছিল মাত্র ৬৬ টন বা ৬৬ হাজার কেজি, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ হাজার টন বা এক কোটি কেজিতে উন্নীত হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আজগর আলী জানান, এ জেলার গৌরীনাথপুর ড্রাগন বাজারে টিনের শেড নির্মাণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। এখানকার কৃষকদের ড্রাগন ফল বিদেশে রফতানি করতে শতাধিক কৃষক ‘হ্যাপি হাট’ নামে দুবাইয়ের একটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এরই মধ্যে ফলের ওজন এবং বিষমুক্ত কি-না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: ঝিনাইদহ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!