বুধবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক ফেরদৌস আরা এ রায় দেন। দণ্ডিতরা হলেন- জীবন (২৫) ও ইমন হাসান (২৬)।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দিন। রায় ঘোষণার সময় আসামি দু’জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
.png)
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ জুন পাঁচলাইশ থানার বাদুরতলা শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা সোলায়মানের মেয়ে সালমা আক্তার (৯) কেনাকাটার জন্য দোকানের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। দুপুর ২টার পরও বাসায় ফিরে না যাওয়ায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। কিন্তু খোঁজ না মেলায় ওইদিন সন্ধ্যায় পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সোলায়মান।
১৪ জুন রাত পৌনে ৩টার দিকে সালমার মামা মহিউদ্দিন নঈমী মার্কেটের সামনে গেলে তার নাকে গন্ধ লাগে। বিষয়টি তিনি ভগ্নিপতি সোলায়মানকে জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা তিনতলা নঈমী ভবনের তৃতীয় তলায় সিঁড়িঘরের পাশে ময়লার স্তূপে কাঠের বাক্সের ভেতর থেকে প্রায় ৩৯ ঘণ্টার পর সালমার মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়। পুলিশ ঐ বছরের ২২ জুন জীবন এবং পরদিন ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। নিহতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়।
পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ওয়ালী উদ্দিন আকবর এবং পরবর্তীতে এসআই পলাশ চন্দ্র ঘোষ তদন্ত করে ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বুধবার ১৫ জনের সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে এ রায় দেন আদালত।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম এ নাসের চৌধুরী জানান, সাক্ষ্য প্রমাণে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া আসামি জীবন ও ইমন হাসানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এছাড়া দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের একই দণ্ড দেন আদালত। উভয় দণ্ড একসঙ্গে চলবে।