স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালকাঠী গ্রামের কাদের চৌধুরীর ছেলে জহিরুল তার প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে সুমা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। এক সপ্তাহ আগে সুমা আক্তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এরপর থেকে সুমা আক্তার ও তার সন্তানের খোঁজ খবর নেয়া বন্ধ করে দেন জহিরুল।
গেল বৃহস্পতিবার সকালে সুমা তার সাতদিন বয়সী সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি এসে জানতে পারেন তার স্বামী আগেও একটি বিয়ে করেছেন। এ সময় সুমা তার স্বামীর ঘরে অবস্থান নেয়ায় ক্ষিপ্ত হন জহিরুলের প্রথম স্ত্রী শাবনাজ। সুমাকে সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া নিয়ে ঝগড়া হয় দুই সতিনের। কিন্তু সুমা কিছুতেই তার স্বামীর সংসার ছেড়ে যেতে রাজি না হওয়ায় সারাদিন তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়।
.png)
সন্ধ্যায় শাবনাজ জোরপূর্বক সুমাকে তার সন্তানসহ ঘর থেকে বের করতে গেলে দুই সতিনের ধস্তাধস্তিতে সাতদিন বয়সী জুবায়ের তার মায়ের কোলেই মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঐ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
শিশুটির মা সুমা বলেন, জহিরুল আমাকে অনেক আগেই বিয়ে করে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে গোপন রেখেছেন। সন্তান জন্মের পর আমি তাকে ফোন করে বলি আমি ও আমার সন্তান খুব অসুস্থ, তুমি একটু আসো। এরপরই তিনি সবধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। নিরুপায় হয়ে আমি স্বামীর বাড়িতে এসেছি। আজ আমার বাচ্চাকে টেনে হিঁচড়ে মেরে ফেলেছে তার প্রথম স্ত্রী। আমি এর বিচার চাই।
তবে, সুমার সতিন শাবনাজ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঐ বাচ্চা ৭ মাসে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। শিশুটি পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল। অসুস্থ বাচ্চা নিয়ে এসে এখন আমাকে ফাঁসানোর পাঁয়তারা চলছে।
এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।