সোমবার ভোর ৩টার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা আবদুল গণির মালিকানাধীন এফবি গণি ফিশিং ট্রলারের জালে এ ১০টি মাছ ধরা পড়ে। পরে সকাল ৮টার দিকে ট্রলারটি সেন্টমার্টিনের জেটি ঘাটে এসে পৌঁছালে মাছগুলো দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় উৎসুক জনতা ও পর্যটকরা। ট্রলার থেকে মাঝি-মাল্লারা পোপা মাছগুলো টেকনাফের ফিশারি ঘাটে নিয়ে আসেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় মাছগুলো ‘কালা পোপা’ নামে পরিচিত।
ট্রলারের মাঝি ওসমান জানান, রোববার সকালের দিকে সাত মাঝি-মাল্লাসহ ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে সাগরে জাল ফেলেন তারা। ভোর রাতে জেলেরা জাল টেনে উঠাতে গিয়ে দেখেন, কোরাল জালে ১০টি বড় বড় কালা পোপা মাছ আটকা পড়েছে। এই দামি মাছ পেয়ে জেলেরা সবাই খুব খুশি হন।
.png)
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ট্রলারের মালিক আবদুল গণি। তিনি জানান, ভোর রাতে কোরাল জালে ধরা পড়েছে ১০টি ১১৫ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের ‘কালা পোপা’। এরমধ্যে একটির ওজন সাড়ে ১২ কেজি থেকে ২০ কেজি। মাছ ১০টির দাম চান ২০ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত মাছগুলো সেন্টমার্টিনে দাম উঠেছে সাড়ে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। ভালো দামে বিক্রির আশায় মাছ ফ্রিজিং করে কক্সবাজার শহরে নিয়ে যাচ্ছি।
এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম মিকটেরোপারকা বোনাসি (Mycteroperca bonaci)। এই মাছের বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ এক ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা যায় বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মাছের চাহিদা আছে। পোপা মাছের বায়ুথলি বেশ মূল্যবান বলে এই মাছের দাম অনেক বেশি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই জেলে তার নিজস্ব ট্রলারের জালে ৫ বারে ১৫টি বড় পোপা মাছ ধরে লাখপতি হয়ে গেছেন। ঘুরে-ফিরে তার ট্রলারে একে-একে বড় আকারের পোপা মাছ ধরা পড়ায় তিনি নিজেকে ভাগ্যবানও মনে করেন।