ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বড়শির মাছই তাদের রুজি

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১৪:৫১, ৯ নভেম্বর ২০২৩
বড়শির মাছই তাদের রুজি
ডিঙি নৌকায় বসে আছেন তারা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুগন্ধা নদীতে ভাসছে ডিঙি নৌকা। প্রতিটি নৌকায় দু’জন করে লোক বসা। এটা কোনো নৌ ভ্রমণ বা নৌকা বিলাস না। জীবিকার তাগিদে ভোরের শীতার্ত আবহাওয়া, দুপুরের তীব্র রোদের গরম উপেক্ষা করে তারা বড়শি দিয়ে মাছ ধরছেন। বড়শিতে মাছ ধরা পড়লে সেটা দিয়েই জোটে তাদের জীবিকা। সন্তানের পড়ালেখাসহ যাবতীয় খরচই বহন করতে হয় নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় সুগন্ধা নদীর তীরে দেখা যায় ১৬ জন মাছ শিকারিকে। তাদের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলায়। মাছ শিকারের জন্য দেড় মাস আগে তারা সুগন্ধা নদীতে এসেছেন। আর এই নদী থেকে তার বড়শি দিয়ে চিংড়ি শিকার করছেন। যাদের সংসার চলে শুধু মাছ শিকার করে। বলা যায় মাছ শিকারই তাদের জীবন-জীবিকা। অন্য কোনো কাজ করেন না তারা।

বেল্লাল মোল্লা নামে এক মাছ শিকারি জানান, বড়শিতে মাছ শিকার করেই চলছে তার এবং তারই মতো আরো বহু পরিবারের জীবন-সংসার। তিনি বলেন, ‘জীবিকার প্রয়োজনে দিন নেই, রাত নেই সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে বছরের পর বছর শুধু মাছ শিকার করেই চলেছি। এখন এটাই পেশা, এটাই নেশা। এই রোজগার দিয়েই স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখাসহ সংসার চলছে আমাদের।’

মৎস্যজীবীদের ডিঙি নৌকারফিকুল ইসলাম নামে আরেকজন মৎস্য শিকারি বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে নৌকা করে বিভিন্ন নদীতে বড়শি দিয়ে চিংড়ি মাছ শিকার করছি। কোনো দিন ২ কেজি কোনো দিন ৪ কেজি আবার কোনো দিন ১ কেজি। দিনে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪৫০০-৫০০০ হাজার টাকা আয় করতে পারি। আবার মাঝে মধ্যে শুধু নিজেদের খাবারের খরচের টাকা আয় হয়।’

নৌকা নোঙর করা ভাসান সম্প্রদায়ের মিলন শেখ জানান, নদীর পানির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়। বড়শিতে মাছ শিকারই তাদের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। আর তারা নৌকায় রান্না করে, নৌকায় খায় ও নৌকায় ঘুমায়।

তিনি আরো জানান, যখন আবহাওয়া খারাপ থাকে তখন বিভিন্ন খালের ব্রিজের নিচে আশ্রয় নেন। এরপর নৌকার ওপরে পলিথিন পেঁচিয়ে ঘর বানিয়ে থাকেন।

নলছিটি পৌর কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম দুলাল চৌধুরী জানান, বেশকিছু দিন ধরেই সুগন্ধা নদীতে একদল মৎস্যজীবী মাছ শিকার করছেন। তারা কোনো ধরনের জাল পাতে না, শুধু বড়শি দিয়েই মাছ শিকার করে। তাদের বড়শিতে বেশিরভাগই চিংড়ি মাছ ধরা পড়ে। রোদ, বৃষ্টি, শীত উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে তারা কঠোর পরিশ্রম করেই বেঁচে আছেন।

ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানান, মৎস্যজীবীদের মধ্যেও বিভিন্ন ধরন আছে। বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করাও এক ধরনের মৎস্যজীবী। এতে মৎস্য নিধন বা নিষেধাজ্ঞার আওতার মধ্যে পড়ে না। তারা শুধুই চিংড়ি মাছ ধরে। অন্য মাছ পেলেও তা দেশের জন্য কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!